মঙ্গলবার ১৬ জানুয়ারি, ২০১৮, বিকাল ০৩:৪৬

স্ট্রবেরী দেখেনি ওরা তবু চাষ করে সফলতার স্বপ্ন দেখছে

Published : 2017-12-08 13:05:00
স্ট্রবেরী নামে একটি ফল আছে, সেটা লোকজনের মুখে শুনেছে। কখনো দেখেনি। কিন্তু সেই স্ট্রবেরীর চারা নিয়ে চাষ করে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা এলাকার ২০ জন নারী। তাদেরকে এ স্বপ্ন দেখিয়েছেন লালমনিরহাট জেলা পরিষদের সদস্য মর্জিনা বেগম। 

বৃহস্পতিবার শাপলা বড়খাতা ফেডারেশনে তাদের মাঝে জন প্রতি ৩ শত পিচ করে স্ট্রবেরীর চারা আনুষ্ঠানিক ভাবে বিতরণ করা হয়েছে। 

বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ও আরডিআরএস বাংলাদেশের উদ্যোগে স্থানীয় শাপলা বড়খাতা ফেডারেশন নামে এক সংগঠন নারীদের মাঝে ওই সব স্ট্রবেরীর চারা বিতরণ করেন। 

শাহানাজ পারভীন নামে স্ট্রবেরী চাষে আগ্রহী এক নারী বলেন, স্ট্রবেরী নামে একটা ফল আছে শুনেছি। কিন্তু কখনো দেখি নাই ও খাই নাই। কৃষি কর্মকর্তাদের মুখে শুনেছি ওই ফল চাষাবাদে আমাদের এলাকার মাটি উপযোগী। মর্জিনা আপা আমাদের উজ্বীবিত করেছেন স্ট্রবেরী চাষে। তাই এবার স্ট্রবেরী চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। 

খোরশেদা বেগম নামে অপর এক নারী বলেন, সাহস করে আমরা স্ট্রবেরী চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি স্ট্রবেরী চাষ করে পারিবারের চাহিদা পুরনের পর তা বিক্রি করে আমরা লাভবান হবো। 

লালমনিরহাট জেলা পরিষদ সদস্য মর্জিনা বেগম বলেন, এ অঞ্চলের জমি গুলো স্ট্রবেরী চাষে উপযোগী কিন্তু কেউ চাষাবাদ করে না। তাই আমি কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে বেশ কিছু নারীকে স্ট্রবেরী চাষে উৎসাহ দিতে থাকি। তাদের মধ্যে ২০ জন নারী স্ট্রবেরী চাষে আগ্রহ প্রকাশ করলে স্থানীয় শাপলা বড়খাতা ফেডারেশনের মাধ্যমে তাদের স্ট্রবেরী চাষের জন্য সহয়োগিতা করা হচ্ছে। পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের কৃষি ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে আসার জন্য এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।

শাপলা বড়খাতা ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ সফিয়ার রহমান বলেন, নারীদের কৃষিতে অংশ গ্রহন বৃদ্ধির জন্য আমরা স্ট্রবেরী চাষের জন্য ২০ নারী কৃষক নির্বাচিত করেছি। তাদের জন প্রতি ৩ শত চারা করে মোট ২০ জনের মাঝে ৬ হাজার স্ট্রবেরীর চারাসহ সার ও ঔষধ বিতরণ করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি তারা স্ট্রবেরী চাষে সফলতা পাবে। পরিবারের চাহিদা পুরুণের পর তারা ওই স্ট্রবেরী বাজারজাত করে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবেন। 

হাতীবান্ধা উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ আলী বলেন, এ এলাকার মাটি স্ট্রবেরী চাষের জন্য বেশ উপযুগী। কিন্তু কেউ তেমন বানিজ্যিক ভাবে চাষাবাদ করছে না। শাপলা বড়খাতা ফেডারেশনের ক্ষুদ্র চেষ্টা প্রশংসার দাবীদার। কৃষি অধিদপ্তর তাদের সফলতার জন্য সকল প্রকার সহযোগিতা করবেন।