মঙ্গলবার ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৭, রাত ০২:১৬

দুর্নীতির অভিযোগে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের এমডিকে অপসারণ

Published : 2017-12-06 17:11:00
অনলাইন ডেস্ক
এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেওয়ান মুজিবুর রহমানকে অপসারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির ১০ অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামী দুই বছর কোনো ধরনের ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার যোগ দেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

গভর্নর ফজলে কবিরের এই নির্দেশ বুধবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “দেওয়ান মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদন্ত করেছিল। তদন্তে দেখা গেছে, অনেক বোর্ড সভায় পরিচালকদের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও বিধি বহির্ভূতভাবে ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে।” সব মিলিয়ে দশটি গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এনআরবি কমার্শিয়ালের এমডিকে অপসারেণের এই নির্দেশ দিয়েছে বলে শুভঙ্কর সাহা জানান।

গতবছর বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকে ৭০১ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদনে গুরুতর অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে এলে ওই ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর গত ২০ মার্চ কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এনআরবি কমার্শিয়ালের চেয়ারম্যান ও এমডিকে পাঠানো  নোটিসে বলা হয়, চেয়ারম্যান ফরাছত আলীর নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ ব্যাংক পরিচালনায় আমানতকারী ও জনস্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন।

আর এমডি মুজিবুর রহমানও ব্যাংকের যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন মন্তব্য করে নোটিসে বলা হয়, যে গুরুতর প্রতারণা ও জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে তা ফৌজদারি অপরাধ। সে সময় অভিযোগের বিষয়গুলো জানিয়ে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারা অনুযায়ী কারণ দর্শাও নোটিশ দেওয়া হয় এমডি মুজিবুর রহমানকে।

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং এমডিকে কেন অপসারণ করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় ওই নোটিসে।

রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক অনুমোদন নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই ২০১৩ সালে লাইসেন্স পায় এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক। এর চেয়ারম্যান ফরাসত আলী এক সময় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।

শুরুর বছরই এনআরবি কমার্শিয়ালে এমডি হিসেবে যোগ দেন দেওয়ান মুজিবুর রহমান, গতবছর তার মেয়াদ নবায়ন করা হয়। এর আগে বেসিক ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকেও কাজ করেছেন তিনি।

চলতি বছরের শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তের মধ্যেই দুর্নীতির অভিযোগে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ফরাসত আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, নিজে কোনো বিনিয়োগ না করে শেয়ার প্রিমিয়ামের টাকা সংগ্রহ করে নিজে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিনিয়োগের মধ্যেমে তিনি কার্যত অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।