মঙ্গলবার ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৭, রাত ০২:০৮

তালিকাভুক্ত ১৮৪৩৯৪ মুক্তিযোদ্ধা তিন মাসের ভাতা পাচ্ছেন এ মাসেই

Published : 2017-12-04 18:17:00
অনলাইন ডেস্ক : তালিকাভুক্ত ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৯৪ জন মুক্তিযোদ্ধা চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের সম্মানী ভাতা এ মাসেই পাচ্ছেন।

সোমবার (৪ ডিসেম্বর) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে জানানো হয়। এ জন্য ইতোমধ্যে এ খাতে ৫৫৩ কোটি ১৮ লাখ ২০ হাজার টাকা ছাড় করা হয়েছে।

এ অর্থ থেকে প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধা মাসে দশ হাজার টাকা করে তিন মাসে ত্রিশ হাজার তুলতে পারবেন। এই হিসেবে তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রতি মাসে সম্মানী ভাতা বাবদ মোট ১৮৪ কোটি ৩৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়।

ইতোমধ্যে প্রত্যেক তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাংক হিসেবে এই টাকা প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নীতিমালাসহ নিদের্শনা প্রদান করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মের হক বাসসকে এ বিষয়ে জানান দেশে বর্তমানে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধার তালিকা রয়েছে। যাচাই বাছাই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। একই ব্যক্তির নাম একাধিক জায়গায় তালিকাভুক্ত থাকায় সঠিক তালিকা প্রণয়নে বিলম্ব হচ্ছে। ভাতা প্রদানকারীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কমপক্ষে ২ লাখে উন্নীত হতে পারে বলে মন্ত্রী জানান।

তিনি বলেন, অন লাইনে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার আবেদন জমা পড়ে এরমধ্যে যাচাই বাছাই করার জন্য ৪৭০টি কমিটি কাজ করছে এবং যাচাই-বাছাই কাজ অব্যাহত রয়েছে। কয়েকটি এলাকায় মামলার কারণে যাচাই-বাছাই আটকে আছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার প্রতিষ্ঠার পর থেকে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। রেশনে চার সদস্য বিশিষ্ট যুদ্ধাহত ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে ৩৫ কেজি চাল, ৩০ কেজি আটা, ৫ কেজি চিনি, ৮লিটার ভোজ্য তেল, ৮ কেজি ডাল দেয়া হয়।

এছাড়া তাদের সন্তানদের শিক্ষা ভাতা, বিবাহ ভাতা, দেশে-বিদেশে চিকিৎসা খরচ, প্রীতিভোজ, উৎসব ভাতা, সরকারি যানবাহনে ফ্রি যাতায়াতসহ বছরে একবার বিনোদন ভ্রমণের ব্যবস্থাকরাসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হয় বলে মন্ত্রী জানান।

তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ঢাকায় ৫ হাজার ১৭৪ জন, নারায়ণগঞ্জে ২ হাজার ৪৫৪ জন, গাজীপুরে ৩ হাজার ৮১ জন, মুন্সীগঞ্জে ২ হাজার ৩০৪ জন, মানিকগঞ্জে ১ হাজার ৮৬৬ জন, নরসিংদীতে ৪ হাজার ৭৮৩ জন, টাঙ্গাইলে ৮ হাজার ৩৯৩ জন, ফরিদপুরে ৩ হাজার ৯শ’ জন, মাদারীপুরে ২ হাজার ৫৭৩ জন, শরীয়তপুরে ২ হাজার ১২১ জন, রাজবাড়ীতে ১ হাজার ২২৪ জন, গোপালগঞ্জে ৫ হাজার ৮২৮ জন।

ময়মনসিংহে ৫ হাজার ৬৩৫ জন, কিশোরগঞ্জে ৩ হাজার ৬০২ জন, নেত্রকোনায় ৩ হাজার ৫৮ জন, জামালপুরে ২ হাজার ৪১৩ জন, শেরপুরে ১ হাজার ৩৩৫ জন।

বরিশালে ৬ হাজার ৫৮১ জন, পিরোজপুরে ২ হাজার ৮৩৪ জন, ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৯৭৬ জন, ভোলায় ১ হাজার ৪৭৪ জন, পটুয়াখালী ১ হাজার ২০২ জন, বরগুনায় ১ হাজার ১৯৫ জন।

চট্টগ্রামে ৮ হাজার ১৬ জন, কক্সবাজারে ৩৪০ জন, নোয়াখালীতে ৪ হাজার ৯৬৩ জন, ফেনীতে ২ হাজার ৯০৮ জন, লক্ষ্মীপুরে ১ হাজার ৭৮৮ জন, কুমিল্লা ৬ হাজার ২৫৮ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ হাজার ৭৯৯ জন, চাঁদপুরে ৩ হাজার ৫৬৯ জন, রাঙ্গামাটিতে ১৫১ জন, বান্দরবানে ১৪৯ জন, খাগড়াছড়িতে ৫৫৬ জন।

সিলেটে ৪ হাজার ২৫৭ জন, মৌলভীবাজারে ১ হাজার ৫৮৯ জন, সুনামগঞ্জে ৪ হাজার ২১ জন, হবিগঞ্জে ২ হাজার ৯৬ জন। 

রাজশাহীতে ২ হাজার ৪৭৪ জন, নওগাঁয় ৩ হাজার ৬৭ জন, নাটোরে ১ হাজার ৪৭১ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২ হাজার ১২৯ জন, পাবনায় ২ হাজার ৭২৫ জন, সিরাজগঞ্জে ৩ হাজার ২৫৫ জন, বগুড়ায় ৩ হাজার ৮৯ জন, জয়পুরহাটে ৭৭৯ জন।

রংপুরে ১ হাজার ৩১৭ জন, গাইবান্ধায় ২ হাজার ৮৭ জন, কুড়িগ্রামে ৪ হাজার ২১২ জন, নীলফামারীতে ৯৪৩ জন, লালমনিটরহাটে ১ হাজার ৯৪২ জন, দিনাজপুরে ৩ হাজার ৭০৬ জন, ঠাকুগাঁওয়ে ১ হাজার ৫১১ জন, পঞ্চগড়ে ১ হাজার ৯৫৮ জন।

খুলনায় ১ হাজার ৮২০ জন, বাগেরহাটে ৪ হাজার ৬শ’ জন, সাতক্ষীরায় ২ হাজার ২৮৩ জন, যশোরে ২ হাজার ৮৭৮ জন, মাগুরায় ১ হাজার ৬৮৩ জন, ঝিনাইদহে ২ হাজার ১০৭ জন, নড়াইলে ২ হাজার ৩৫৬ জন, কুষ্টিয়ায় ৩ হাজার ৯৫ জন, চুয়াডাঙ্গায় ১ হাজার ৪৭৮ জন, মেহেরপুরে ৯৬৮ জনসহ মোট ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৯৪ জন তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা এ ভাতা পাচ্ছেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা কোন অবস্থানেই নগদ পরিশোধ না করে ভাতাভোগীদের স্ব স্ব ব্যংক হিসাবে দেয়া হচ্ছে। এই ভাতা বিতরণে কোন অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ম্যানেজার দায়ী থাকবেন বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়াও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ২৪তম সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে মুক্তিযোদ্ধাদে ভারতীয় তালিকা, লাল মুক্তিবার্তা তালিকা এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত গেজেটভুক্ত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিকতা নির্ণয়ের বিষয়টি পুনরায় যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বাসস।