রবিবার ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭, সকাল ০৮:২৩

চাঁদা না দেওয়ায় প্রতিবন্ধী ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে রিকশা নিয়ে গেল পুলিশ

Published : 2017-12-03 19:10:00
অনলাইন ডেস্ক : দাবীকৃত চাঁদা না দেওয়ায় প্রতিবন্ধী এক সবজি ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে তার রিকশা নিয়ে যায় সাভার মডেল থানাধীন ট্যানারী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই এবিএম শাহ আলম। কান্নাজরিত কণ্ঠে এ অভিযোগ করেন ফুটপাতে রিকশায় করে আলু পেয়াজ বিক্রেতা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) হারুন শেখ (২৬)।

সেই সাথে তার কাছে থাকা সবজি বিক্রির ১২ হাজার টাকা ওই পুলিশ কর্মকর্তা ছিনিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রোববার দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কয়েক মাস ধরে প্রতিবন্ধী হারুন শেখ রিকশা করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডে আলু ও পেয়াজ বিক্রি করে আসছিল। সবজি বিক্রির টাকা দিয়েই তার সংসার চলছিল।

রোববার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে সাভার মডেল থানাধীন ট্যানারি পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) এবিএম শাহ্ আলম আসেন প্রতিবন্ধী হারুন এর দোকানে। এসময় তিনি  তার কাছে ৫’শ টাকা চাঁদা দাবী করেন এবং দাড়িয়ে ব্যবসা করতে হলে তাকে এ চাঁদা দিতে হবে জানান। কিন্তু বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) হারুন এসআই এর দাবীকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করেন।

পরে এসআই ওই প্রতিবন্ধীকে পেটায় ও রিকশায় থাকা আলু-পেয়াজ ফেলে দেয় এবং রিকশাটি নিয়ে চলে যান। এসময় তার রিকশায় থাকা আলু-পেয়াজ বিক্রির ১২ হাজার টাকাও নিয়ে যান এসআই শাহ আলম।

ঘটনায় ওই এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ করতে চাইলে পুলিশ তাদের বাঁধা দেন এবং ঘটনাস্থল থেকে তাদের সরিয়ে দেন। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ওই পুলিশ কর্মকর্তার প্রত্যাহার দাবী জানিয়েছেন।

এদিকে, কয়েক মাস আগে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে হেমায়েতপুর এলাকার ব্যবসায়ীরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছিল।

বিষয়টি জানতে চাইলে সাভার মডেল থানাধীন ট্যানারী পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) এবিএম শাহ্ আলম জানান, ফুটপাত দখল করে কিছু সবজি ব্যবসায়ীরা সবজি বিক্রি করছিল। আমরা প্রায়ই তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেই ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে। আজ একই ঘটনা। সবাই চলে গেলেও ওই প্রতিবন্ধী না গিয়ে উল্টো বিভিন্ন অশালীন কথাবার্তা বলেতে থাকে।

একপর্যায়ে তার ভ্যান থেকে আলু এবং পেয়াজ মাটিতে ঢেলে রেখে ভ্যানটি ফাঁড়িতে নিয়ে আসি। তবে তাকে মারধর করা হয়েছে এবং তার কাছে থাকা টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

এবিষয়ে ট্যানারি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (ইনচার্জ) মুহম্মদ গোলাম নবী শেখ জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। এরকম করে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।