মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারি, ২০১৮, সকাল ০৭:৪৭

রোহিঙ্গাদের ভাসান চরে পাঠানোর বিরোধিতায় অ্যামনেস্টি

Published : 2017-11-29 17:09:00, Updated : 2017-11-29 17:22:46
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী ঘর (ফাইল ছবি)

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর ভাসান চর (ঠেঙ্গার চর) দ্বীপে স্থানান্তরের বিষয়ে সরকারের  নেওয়া বিরোধিতা করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকারের সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি বলছে ভাষান চর বসবাসের উপযোগী নয়।

মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর আগ পর্যন্ত ভাসান চরে এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য অস্থায়ী আবাসস্থল ও দ্বীপটির নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে গত মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) একনেক সভায় ২ হাজার ৩১২ কেটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন পায়।

এ খবরের পর আজ বুধবার (২৯ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভাসান চরকে বসবাসের অনুপযোগী ও বন্যাপ্রবণ এলাকা হিসেবে আখ্যায়িত করে সেখানে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের বিরোধিতার কথা জানায় অ্যামনেস্টি।

বিজ্ঞপ্তিতে অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক বিরাজ পাটনায়েক বলেন, “অন্যান্য শরণার্থী ক্যাম্প থেকে বহুদূরে, বন্যাপ্রবণ ও বসবাসের অনুপযোগী একটি দ্বীপে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করা হলে সেটি হবে একটি ভয়ানক ভুল।”

দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গারা পালিয়ে রাখাইন সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নিতে নিতে অগাস্টের আগ পর্যন্ত তাদের সংখ্যা চার লাখে বেশি ছাড়িয়ে যায়। বর্তমানে সবমিলে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজার এলাকায় অবস্থান করছে। ওইসব রোহিঙ্গাদের নিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় সামাজিক নানা সমস্যা সৃষ্টির অভিযোগ আছে।
এসব প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার কাছে মেঘনার মোহনার বিরান দ্বীপ ভাসান চরে সরিয়ে নিতে পরিকল্পনা করে সরকার।

তবে এতে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে দাবি অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক বিরাজ পাটনায়েকের।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত তিন মাসে রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিলেও বাংলাদেশ সরকার এখন তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি ঝুঁকিতে ফেলছে। একইসঙ্গে আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে তারা যে সুনাম অর্জন করেছে, তাতেও জল ঢেলে দিচ্ছে।

জোয়ারের সময় ১০ হাজার এবং ভাটার সময় ১৫ হাজার একর আয়তনের জনমানবহীন ভাসান চর মূলত গরু-মহিষের চারণভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হত। ২০১৩ সালে এ চরকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল এলাকা ঘোষণা করা হয়। ইঞ্জিনচালিত নৌযান ছাড়া সেখানে যাতায়াতের সুযোগ নেই। হাতিয়া থেকে যেতেও তিন থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা সময় লাগে।

এমন একটি দ্বীপে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করা হলে তাদের জন্য সেখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো বিষয়টি কঠিন হবে বলেও বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি।

এদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে যে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ, রাখাইনে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তাও স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে লন্ডনভিত্তিক এই মানবাধিকার সংস্থা।

বিজ্ঞপ্ততিতে বলা হয়, সম্প্রতি অ্যামনেস্টির এক প্রকাশনায় রোহিঙ্গাদের দলে দলে দেশান্তরী হওয়ার মূল কারণগুলো বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের জন্য মিয়ানমার সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি অমানবিক ব্যবস্থার ফাঁদ প্রতিষ্ঠা এবং তাদের সঙ্গে বৈষম্যের প্রাতিষ্ঠানিককরণ করা হয়েছে বলে এতে উঠে এসেছে।

বিরাজ পাটনায়েক বলেন, “এসব সমাধানের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে ফেরার মতো পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত যে কোনো ধরনের প্রত্যাবাসন চুক্তি বাংলাদেশের স্থগিত রাখা উচিত।