মঙ্গলবার ১৬ জানুয়ারি, ২০১৮, বিকাল ০৩:৫০

নদীতে ভাসমান খাঁচায় মৎস্য চাষে সফল সজিব

বেকার যুবকদের এ পদ্ধতিতে মাছ চাষে আগ্রহ বাড়ছে

Published : 2017-11-27 17:11:00
ছবি : রাকিবুল ইসলাম, সিংড়া, নাটোর। নাটোরের সিংড়ায় নদীতে ভাসমান খাঁচায় মৎস্য চাষে সফলতার মুখ দেখেছে নাসিমুজ্জামান সজিব নামে এক যুবক। বেকারত্ব দুর করে তার জীবনে এনেছে সফলতার আলো। স্বল্প খরচে খাঁচায় মৎস্য চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নদী তীরবর্তী বেকার যুবকদের মাঝে। সজিবের মৎস্য চাষ দেখে এ এলাকার বেকার যুবকরা আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সজিব সিংড়া পৌর শহরের নিংগইন মহল্লার শামসুল হকের ছেলে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আত্রাই নদীর শাখা গুড়নাই নদীতে খাঁচায় মৎস্য চাষ করা হয়েছে। ৩৪টি ড্রামে পানিতে মাছের আবাসস্থল করা হয়েছে। ১৬টি খাঁচায় রয়েছে ১৬ হাজার পোনা। প্রত্যেকটি খাঁচায় লাইটিং ব্যবস্থা করা আছে, যাতে করে রাতের বেলা মাছ সহজে পোকামাকড় খেতে পারে। আলো বাতাস সবকিছু সঠিক মত পাওয়ার কারনে মাছ গুলো দ্রুত বেড়ে উঠেছে।

সজিব জানায়, টেলিভিশনে কৃষি প্রতিবেদন দেখে উৎসাহ পেয়ে নিজের এলাকায় করার জন্য খাঁচা তৈরি করি। প্রথমত ৬টি খাঁচা তৈরি করতে প্রায় ৯০ হাজার টাকা লেগেছে। পরে আরো ১০টি খাঁচা করছি। পুকুরে মাছ চাষ করতে লিজ নিতেই প্রায় দু থেকে চার লাখ টাকা লাগে।

সেখানে ১ লাখ টাকা ব্যয় করে মাছ চাষ করতে পারছি। প্রতিদিন দুবার খাবার দেয়া হয়। রাতে বেলায় বিদ্যুতের আলোতে পোকা খায় মাছ। তাছাড়া নদীর পানিতে এমনিতেই খাবার আছে। এতে করে খাবার অত্যন্ত কম লাগে। প্রায় ১০০দিন আগে তেলাপিয়া মাছের পোনা ছেড়েছিলাম বর্তমানে প্রতিটি মাছ ৬০০ গ্রামে রুপান্তর হয়েছে। এ পদ্ধতিতে খরচ কম।

সে আরো জানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি এটা দেখে অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। তিনি দু'লাখ টাকা সরকারীভাবে বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছেন।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ওমর আলী জানান, এ পদ্ধতি অত্যন্ত ভালো। কম খরচ হওয়ায় জনপ্রিয় এ পদ্ধতি চলনবিলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তাছাড়া এলাকার বেকার যুবকদের এ পদ্ধতিতে মাছ চাষে আগ্রহ বাড়ছে।