মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারি, ২০১৮, সকাল ১০:১৭

ছাত্র লিপু হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড

Published : 2017-11-22 14:24:00, Updated : 2017-11-22 14:57:22

অনলাইন ডেস্ক : কুষ্টিয়ায় ছাত্র তৌহিদুল ইসলাম ওরফে লিপুকে অপহরণের পর হত্যার অপরাধে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড ও ৮জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত ।  বুধবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এ রায় ঘোষণা করেন । মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-রাকিবুল ইসলাম বাপ্পী ও সুমন । আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী গণমাধ্যমকে এ খবর জানান । 

২০১৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া থেকে অপহৃত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যায়ের ছাত্র লিপু অপহরণের মূল হোতা রাকিবুল ইসলাম ওরফে বাপ্পীকে আটক করা হয় ।  প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাপ্পী জানিয়েছেন, ১ সেপ্টেম্বর রাতে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মাজদিয়া গ্রামে হত্যার পর লিপুর লাশ পদ্মা নদীতে ফেলে দিয়েছেন । 

তৌহিদুল ইসলাম ওরফে লিপু অগ্রণী ব্যাংক কুষ্টিয়া প্রধান কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) ওয়াহিদুল ইসলামের ছেলে । তিনি ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিভাগের ছাত্র ছিলেন। গত ২২ আগস্ট চতুর্থ সেমিস্টার পরীক্ষা শেষে ঢাকা থেকে ছুটি কাটাতে কুষ্টিয়ার থানাপাড়ার বাড়িতে আসেন । ৩১ আগস্ট দুপুরে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ১ সেপ্টেম্বর তাঁর বাবা কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন । এরপর লিপুর ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে তাঁর বাবার মুঠোফোনে কল আসে । এ সময় তাঁকে অপহরণের কথা জানানো হয় ও তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় । এরপর মডেল থানায় একটি অপহরণের মামলা হয়। ৬ সেপ্টেম্বর শনিবার শেষবার অপহরণকারীরা মুঠোফোনের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকার জন্য চাপ দেয় । অন্যথায় লিপুকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়।
বাপ্পীর র‌্যাবকে জানায়, ৩১ আগস্ট সন্ধ্যায় তাঁরা ছয়জন মিলে লিপুকে ইয়াবা ও ফেনসিডিল খাওয়ানোর কথা বলে ঈশ্বরদীতে নিয়ে আসেন । সেখানে মাজদিয়া গ্রামের সুমন নামে এক যুবকের পরিকল্পনায় লিপুকে সেখানে নিয়ে ইয়াবা সেবন ও ফেনসিডিল খাওয়ান । পরে রাত ১০টার দিকে তাঁকে সুমনের বাড়িতে রাখেন । ১ সেপ্টেম্বর সারা দিন সুমনের বাড়িতে রাখার পর সন্ধ্যার দিকে মাজদিয়া গ্রামের মাঠে আখখেতে লিপুকে শ্বাসরোধে হত্যার পর বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় । রাত সাড়ে আটটার দিকে ১০টি ইট বেঁধে লাশ পদ্মায় ফেলে দেওয়া হয়। পরে পদ্মাপাড়ের মাটির চাপ ফেলে লাশ চাপা দেওয়া হয় । এ ঘটনায় কুষ্টিয়ায় লিপুর দূরসম্পর্কের এক ভাইসহ ছয়জন জড়িত । লিপুকে হত্যার পর তাঁর বাবার কাছে কয়েক দিনে দফায় দফায় তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছিল ।