মঙ্গলবার ১৬ জানুয়ারি, ২০১৮, বিকাল ০৩:৪৮

আইনি জটিলতা এড়াতে পারবে ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞা?

Published : 2017-03-08 14:18:00
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংশোধিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় সোমবার (৭ মার্চ) স্বাক্ষর করেছেন। এরই মধ্যে আমেরিকান সিভিল রাইটস লিবার্টিস ইউনিয়ন এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাগুলো ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশের আইন বৈধতা চ্যালেঞ্জের জন্য তৈরি হচ্ছে। ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞাকে 'মুসলিম নিষেধাজ্ঞা' হিসেবে গণনা করা হচ্ছে। 

 

তবে এবারের নিষেধাজ্ঞায় কিছুটা পরিবর্তন থাকায় কিছুটা হলেও বিশৃঙ্খলা হবার আশংকা কম। জারিকৃত নতুন আদেশ আগামী ১৬ মার্চ থেকে কার্যকর হবে। এ আদেশ অনুযায়ী সিরিয়া, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, ইয়েমেন এবং সুদানের শরণার্থীরা আগামী ১২০ দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে না। পাশাপাশি এ ছয়টি দেশের নাগরিকদের আগামী ৯০ দিন পর্যন্ত মার্কিন ভিসা প্রদান করা হবেনা। 

 

নতুন নিষেধাজ্ঞা প্রথমটির মতো হলেও আদালতের সম্মতি পাবার জন্য সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমটি হলো ১৬ মার্চ পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে যাতে করে অভিবাসী এবং শরণার্থীরা পরিবর্তনের সাথে তাল মেলানোর সুযোগ পায়। দ্বিতীয়ত, নতুন আদেশ অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর বৈধ স্থায়ী অভিবাসী এবং ভিসাধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে কোন বাধা নেই। তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এ তালিকা থেকে ইরাককে বাদ দেয়া হয়েছে।

 

ট্র্রাম্প প্রশাসনের নতুন এ কৌশলের কারণে জনগণের ক্ষোভ কিছুটা এড়ানো গিয়েছে এবং একে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় করেছে। তবে শুধু মুসলিমদের ওপর আরোপিত এ নিষেধাজ্ঞা সর্বস্তরে সমালোচিত হচ্ছে। আমেরিকান সিভিল লিবারটিজ ইউনিয়ন বলেছে তারা নতুন আদেশের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। তাদের মতে ট্রাম্প প্রশাসন আগের নিষেধাজ্ঞা থেকে কিছুটা সরে আসলেও এটি এখনও মুসলিম নিষেধাজ্ঞা। যা যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক।

 

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সংক্রান্ত আইনজীবীরা এ নিষেধাজ্ঞাকে আগেরবারের মতোই বিদ্বেষপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করেছে। আমেরিকান-আরব অ্যান্টি-ডিসক্রিমিনেশন কমিটি (এডিসি) ট্রাম্পের এ বিদ্বেষপূর্ণ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালানোর জন্য তহবিল সংগ্রহের আহবান করেছে। সুতরাং এখন এটি দেখার বিষয় ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞা আইনি জটিলতা সম্পূর্ণ এড়াতে পারছে কিনা। সূত্র: এএফপি, বিবিসি