বুধবার ২২ নভেম্বর, ২০১৭, সকাল ০৭:৪৭

তিতুমীরের মৃত্যু

Published : 2017-11-14 18:16:00,
ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী সৈয়দ মীর নিসার আলী তিতুমীর ১৭৮২ সালের ২৭ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণা জেলার বশিরহাট মহকুমার চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তিতুমীর নামেই বেশি পরিচিত। জমিদার ও ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামে তাঁর নির্মিত দুর্গ ‘বাঁশের কেল্লা’ এই অঞ্চলের স্বাধীনতাকামীদের যুগে যুগে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

তিতুমীরের পড়াশোনার হাতেখড়ি বাবার কাছে। গ্রামের ওস্তাদের কাছে উর্দু, আরবি, ফার্সি, বাংলা ও ধারাপাত শেখেন। পড়াশোনার পাশাপাশি মুষ্টিযুদ্ধ, লাঠিখেলা, তীর ছোড়া ও তলোয়ার চালনায় পারদর্শিতা অর্জন করেন তিনি।

দরিদ্র কৃষকদের নিয়ে জমিদার এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন তিতুমীর। স্থানীয় জমিদারদের সঙ্গে কয়েকটি সংঘর্ষে জয়লাভও করেন। তাঁর নির্দেশে হিন্দু-মুসলমান প্রজারা খাজনা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এরপর বারাসাতে সরকারের বিপক্ষে প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। চব্বিশ পরগণার কিছু অংশ, নদীয়া ও ফরিদপুরের একাংশ নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করেন। বারাসাত বিদ্রোহ নামে পরিচিত এই বিদ্রোহে বর্ণহিন্দুর অত্যাচারে জর্জরিত অনেক হিন্দু কৃষকও অংশগ্রহণ করে।

ইংরেজ বাহিনীকে রুখতে ১৮৩১ সালে নারকেলবাড়িয়ায় বাঁশ এবং কাদা দিয়ে দুই স্তরবিশিষ্ট বিখ্যাত বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন তিনি। বাঁশের কেল্লা তৈরিতে সহযোগিতা করেছিল জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ। কিন্তু ইংরেজ বাহিনীর গোলা-বারুদের কাছে তাঁর এই দুর্গ টিকতে পারেনি।

১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর ইংরেজ বাহিনীর গোলার আঘাতে ছারখার হয়ে যায় বাঁশের কেল্লা। শহীদ হন বীর তিতুমীরসহ অসংখ্য মুক্তিকামী সৈনিক। ২৫০ জনেরও বেশি সৈন্যকে ইংরেজরা বন্দি করে। পরে তাদের কারও কারাদণ্ড আবার কারও ফাঁসি হয়।

আরও খবর