বুধবার ২৪ জানুয়ারি, ২০১৮, ভোর ০৬:১০

চিতা আর সিংহ শাবকগুলো সাফারি পাকের্র অতিথি

যশোর থেকে উদ্ধার

Published : 2017-11-14 16:28:00, Updated : 2017-11-14 16:48:15
নিবীড় পর্যবেক্ষন কেন্দ্রে সিংহ ও চিতা শাবকগুলোর দুরন্তপনা চলছে অনলাইন ডেস্ক : চোরাকারবারিরা সীমান্ত পথে ভারতে পাচারের সময় সোমবার সকালে যশোরের চাঁচড়া এলাকা থেকে দুটি চিতা (লেপার্ড) ও দুটি সিংহ শাবক উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে রাতে উদ্ধার হওয়া শাবকগুলোকে গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে স্থানান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর ৪.১০ মিনিটে ওই চিতা ও সিংহ শাবকগুলো আনা হয় পার্কে।

পরে সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী উদ্ধার কেন্দ্রের নিবীর পর্যবেক্ষন কেন্দ্রে রাখা হয় শাবকগুলোকে। এখন নিয়মিত পরিচর্যার সঙ্গে শাবকগুলোকে নিয়মিত খাবার দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ পথের জার্নিতে (ভ্রমন) শাবকগুলো একটু দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে দু'চার দিনের মধ্যেই শাবকগুলো ধকল (স্ট্রেস) কাটিয়ে উঠতে পারবে বলে জানান দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। সাফারি পার্কে এর আগে বেশ কয়েকবার সিংহ শাবকের জন্ম হলেও প্রথম বারের মতো চিতা শাবক আসল পার্কে। তবে এ সাফারি পার্কে চিতা বাঘ রাখার উপযুক্ত পরিবেশ নাই।

জানাযায়, ঢাকার উত্তরা থেকে যশোরের বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে আর্ন্তজাতিক পশু চোরাকারবারিরা প্রাডো জিপ গাড়িতে করে ভারতে পাচারের জন্য দুটি চিতা শাবক ও দুটি সিংহ শাকব বহন করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোরের চাঁচড়া এলাকায় পুলিশ নিরাপত্তা চৌকি বসিয়ে তল্লাসি করে সোমবার সকাল ১০.১৫ মিনিটে শাবকগুলো উদ্ধার করে। পরে খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুদিনুল আহসানের কাছে হস্তান্তর করলে শাবগুলোকে গাজীপুরের শ্রীপুরের সাফারি পার্কে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

পার্কের প্রাণী পরিদর্শক আনিসুর রহমান জানান, মঙ্গলবার ভোর চারটা দশ মিনিটে একটি গাড়িতে করে দুটি চিতা (লেপার্ড) শাবক ও দুটি সিংহ শাবক নিয়ে আসেন খুলনা বিভাগীয় অঞ্চলের প্রাণি পরিদর্শক রাজু আহম্মেদ। এ সময় শাবকগুলো পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পরে ভোরেই আগে থেকে প্রস্তুত করা প্রাণি পর্যবেক্ষন কেন্দ্রে নেওয় হয় শাবকগুলোকে। দুটি আলাদা কক্ষের একটিতে দুটি চিতা শাবক অন্যটিতে দুটি সিংহ শাবককে রাখা হয়েছে। তিনি জানান পার্কে নতুন দুই সিংহ শাবকসহ মোট ২১ টি সিংহ হলো। এর মধ্যে সাদা (জিনগত) সিংহ রয়েছে চারটি আর অপর সতেরটি বাদামি সিংহ।

উদ্ধার হওয়া শাবগুলোকে (বন্য প্রাণি হাসপাতাল) নিবীর পর্যবেক্ষনে রাখা হয়েছে। তিনি জানান সিংহ শাবক দুটির বয়স আড়াই মাস ও চিতা শাবক দুটির দেড় মাস বয়স হয়েছে। লেপার্ড (চিতা) এক বছর বয়স হলেই দুইটাকে আলাদা আলাদা কক্ষে রাখতে হবে।

পার্কের অ্যানিমেল কিপার নুরুনবী মিন্টু ও রঞ্জন সিকদার জানান, চিতা ও সিংহ শাবকগুলোকে কুকুকেট মিল্ক (থাইল্যান্ডের তৈরী বিশেষ দুধ) খেতে দেওয়া হচ্ছে।  সিংহ শাবক দুটিকে মরগির মাংস (বয়লার) সিদ্ধ করে কিমা বানিয়ে খেতে দেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

অপর প্রাণি পরিদর্শক সরোয়ার হোসেন খান জানান, লেপার্ড শাবক দুটিই মেইল(পুরুষ) আর একটি শাবকের ওজন লেজসহ ২ কেজি অন্যটি ১.৬৬ কেজি। অপর দিকে দুটি সিংহ শাবকের একটি মেইল(পুরুষ) এর ওজন ৬.১০ কেজি অন্যটি ফিমেইল (নারী) এর ওজন ৬.১২ কেজি। লেজসহ একটি লেপার্ড শাবক ২৬ ইঞ্চি লম্বা অপরটি ২২ ইঞ্চি লম্বা। অন্য দিকে সিংহ শাবক একটি লেজসহ ৩৫ ইঞ্চি ও অপরটি ৩২ ইঞ্চি লম্বা হয়েছে।

পার্কের ভেটেরিনারি সার্জর ডা. নিজাম উদ্দিন চীেধুরী জানান, লম্বা পথের জার্নিতে অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে শাবকগুলো। খাদ্য পরিচর্যাসহ নিয়মিত ওর্য়াকিং টিম শাবগুলোর উন্নত পরিচর্যা করছে।

পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (রেঞ্জার) মো. মোতালেব হোসেন জানান, পার্কের হাসপাতালের নিবীর পর্যবেক্ষন কেন্দ্রে রেখে যত্ন নেওয়া হচ্ছে। পার্কে আগেও সিংহ শাবকের জন্ম হয়েছে। সেগুলো ভাল আছে। নতুন দুটি সিংহ শাবকে উপযুক্ত সময়ে অবমুক্ত করা হবে।

তবে আমাদের সাফারি পার্কে লেপার্ড (চিতা) বাঘ রাখার কোনো ব্যবস্থা নাই। চিতা শাবকগুলো প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই তাদের বসবাস উপযোগী পরিবেশ তৈরী করতে হবে। আমরা চাই এ সাফারি পার্কে চিতা বাঘ নতুন বাসিন্দা হোক আর দর্শনার্থীদের আর্কষনে পরিনত হোক। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকল্প পরিচালক মো. সামসুল আজম জানান এখনো অনেক ছোট শাবগুলো। আগে সারভাইব (বেঁচে থাকা) করুক পরে নিশ্চয়  চিতা বাঘের জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।