মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ০২:৩৩

পোশাক শিল্পে নিরাপত্তা: নিরাপদ কর্মপরিবেশ দৃশ্যমান করতে হবে

Published : 2017-03-29 22:15:00
তৈরি পোশাক শিল্প গুরুত্বের বিচারে এখন এমন স্তরে উপনীত হয়েছে যে, দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা অনেকাংশেই আজ এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। রফতানি, কর্মসংস্থান এবং জিডিপিতে অবদান, যে দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখা হোক না কেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোশাক শিল্পের অবদান অপরিসীম। তবে দুঃখজনক হলেও অস্বীকার করার উপায় নেই যে, পোশাক শিল্পে নিরাপত্তার বিষয়টি এখনও প্রশ্নের সম্মুখীন।
পোশাক শিল্পে দুর্ঘটনার কারণে দেশের প্রধান রফতানিমুখী এই শিল্পের ওপর বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক চাপ এসেছে। বিশেষ করে তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও মর্মান্তিক রানা প্লাজা ধসে ব্যাপক হতাহতের ঘটনায় পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিশ্বব্যাপী আলোচনায় উঠে আসে। কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দুর্বলতা থাকার কারণে বিভিন্ন সময় পোশাকের রফতানি বাজার নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সরকার পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
পোশাক শিল্পের বর্তমান কর্মপরিবেশ আগের চেয়ে বেশ ভালো বলে মন্তব্য করেছে সম্প্রতি ঢাকা সফররত ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দল। রানা প্লাজা দুর্ঘটনা-পরবর্তী বাংলাদেশের পোশাক খাতে বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। তবে সংস্কার কাজে এখনও কিছু ঘাটতি আছে, সেগুলো পূরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে এখন কর্মবান্ধব ও নিরাপদ গ্রিন ফ্যাক্টরি গড়ে উঠছে। এজন্য মালিকদের বিনিয়োগ বাড়তে হচ্ছে। তবে এ কথাও সত্য যে, তৈরি পোশাক ক্রেতারা পোশাকের মূল্যবৃদ্ধি করছে না। পোশাক শিল্প টিকিয়ে রাখতে পোশাকের মূল্যও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের পোশাকের দাম বাড়াতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও জোর প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পোশাক শিল্পে নিরাপদ কর্মক্ষেত্র তৈরির বিকল্প নেই। যেসব কারখানা কোনো কারণ ছাড়াই সংস্কারে উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। পোশাক শিল্পের সংস্কার কার্যক্রম তদারকির জন্য সরকার একটি সেল গঠন করেছে। এর কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি। অন্যদিকে অবকাঠামোগত নিরাপত্তার বাইরেও বাংলাদেশের পোশাক খাতের অন্যতম সমস্যা শ্রমিকদের আর্থিক নিরাপত্তা। সময় সময় প্রধানত এ নিয়েই পোশাক শিল্প খাত অশান্ত হয়ে ওঠে। পোশাক শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে বেতন-ভাতার বিষয়টিও শ্রমিকবান্ধব করতে হবে।  
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স ফোরাম ফর আরএমজি মনে করছে, ২০২১ সাল নাগাদ পোশাক রফতানি ছাড়িয়ে যাবে ৫০ বিলিয়ন ডলার। এটি একটি আশাব্যঞ্জক খবর নিঃসন্দেহে। তবে এক্ষেত্রে সমস্যাগুলোর অন্যতম হল নিরাপত্তা। অথচ পোশাক শিল্পের সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্যই এ খাতের কর্মপরিবেশ নিরাপদ করার বিকল্প নেই। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি যেন আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্য হয়, সেজন্য তা দৃশ্যমান করতে হবে। দেশের সব পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।