শুক্রবার ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ১১:৪০

বাংলাদেশ ব্যাংকের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতি ৮০ লাখ টাকা

Published : 2017-03-29 20:37:00
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মদ্রানীতি বিভাগে আগুন লেগে তিনটি কম্পিউটার ও ইউপিএস, একটি করে স্ক্যানার ও ফটোকপি মেশিন, দুটি প্রিন্টার, কয়েকটি চেয়ার-টেবিলসহ বেশ কিছু আসবাবপত্র পুড়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে বাংলাদেশ ব্যাংক গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। পুড়ে যাওয়া জিনিসপত্রের ক্রয়মূল্য হিসেবে প্রায় ৮০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আজ ২৯ মার্চ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা এ তথ্য জানান।


এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নির্বাহী পরিচালক আহমেদ জামালের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনটি গভর্নর ফজলে কবিরের হাতে হস্তান্তর করে। সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক ও সহকারী মুখপাত্র জী এম আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।  


সংবাদ সম্মেলনে শুভঙ্কর সাহা বলেন, জরুরি বা দাফতরিক কোনো কাগজপত্রের ক্ষতি হয়নি। ঘটনাস্থলে চা বানানোর কেটলি পাওয়া গেছে। ওই কেটলি থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে কেটলি বা অননুমোদিত কোনো কিছু বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরে ব্যবহার না করতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে। সব বিভাগের কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর কেয়ারটেকাররা যেন সার্কিট ব্রেকার বন্ধ করেন, তদন্ত প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবেদনে আধুনিক ফায়ার প্রটেকশন বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার, একজন কন্ট্রোলার বা নিয়ন্ত্রক নিয়োগ ও কেন্দ্রীয়ভাবে বিদ্যুতের সুইচ বন্ধ করে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।


প্রসঙ্গত, গত ২৩ মার্চ রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের ১৪ তলায় বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মাসুদ বিশ্বাসের কক্ষে আগুন লাগে। এতে ওই কক্ষের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট কাজ করে রাত ১০টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন পুরোপুরি নেভানো হয় রাত ১০টা ৩৪ মিনিটে। এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে ঘটনার রাতেই ব্যাংকের তিন সদস্যের একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একই ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসও পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। নির্ধারিত সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। আজ ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত প্রতিবেদন জমার দেওয়ার কথা রয়েছে।


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আরেকটি তদন্তকাজ করছে ফায়ার সার্ভিস বিভাগ। ফায়ার সার্ভিস কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সিসিটিভি ফুটেজসহ বেশ কিছু রেকর্ডপত্র চেয়েছে। ৩০ মার্চের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরবরাহ করবে বলে সূত্র জানিয়েছে। গতকালও ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত দল কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আসতে দেখা যায়। এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (ঢাকা) সমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, বৈদ্যুতিক কেটলির শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। এখন এই ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা না নাশকতা সেটা যাচাই-বাছাই করতে কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে।