বুধবার ২২ নভেম্বর, ২০১৭, সকাল ০৭:৪৯

সুন্দরবনের দুবলার চরে শুটকি মৌসুম শুরু

Published : 2017-10-23 17:41:00, Updated : 2017-10-23 18:41:28
আবু হোসাইন সুমন, মোংলা: বঙ্গোপসাগর পাড়ের সুন্দরবনের দুবলার চরে শুরু হতে যাচ্ছে শুটকি প্রক্রিয়াকরণ মৌসুম। শুটকি মৌসুমকে কেন্দ্র করে ২২ অক্টোবর সোমবার ভোরে মোংলার পশুর নদী সংলগ্ন চিলাসহ অন্যান্য খাল থেকে প্রথম দফায় প্রায় সহস্রধিক জেলে সুন্দরবনের দুবলার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। ২৪ অক্টোবর মঙ্গলবার গভীর রাতে দ্বিতীয় দফায় জেলেরা সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উপকূলের বিভিন্নস্থান থেকে জেলেরা এসে মোংলায় একত্রিত হয়ে দল বেধে যাত্রা শুরু করছেন দুবলার চরে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত টানা ৫ মাস ধরে দুবলার চরে চলে শুটকি মৌসুম। অন্যান্য বছরের মতো এবারও সমুদ্রগামী জেলেদের মধ্যে ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ, দস্যুদের উত্পাতসহ বনবিভাগের হয়রানির আতংক রয়েছে। দুবলার চরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা মোংলার জয়মনির আবুল, চিলার তাহের, চাঁদপাই গ্রামের আবদুল্লাহ, রামপাল উপজেলার পেড়িখালী গ্রামের রুহলসহ অনেক জেলে বলেন, দস্যু আতংক আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা মাথায় রেখেই আমরা দুবলার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছি। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, চলতি মৌসুমে আমরা যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে মাছ শিকার এবং শুটকি তৈরি করতে পারি তারা যেন তার ব্যবস্থা করেন। পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও জেলেদের নিরাপত্তার জন্যে আমরা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। সুন্দরবনে জেলেদের উপর বনদস্যুদের হামলা ও আক্রমন থেকে রক্ষার জন্যে র‍্যাব, কোষ্টগাডর্, পুলিশ ও বনবিভাগ সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করবে।

আবার জেলেরা যাতে সুন্দরবনের বনজ সম্পদ ধ্বংস করে থাকার ঘর নির্মাণ না করে সে জন্যে তাদের ঘর তৈরী করার সরঞ্জাম সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জেলেদের মৎস্য আহরণ ও শুটকি প্রক্রিয়াকরণের উপর ভিত্তি করেই বন বিভাগের রাজস্ব আয় হয়ে থাকে। গত অর্থ বছরে আমাদের রাজস্ব আয় ছিল প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ বছর আমরা তার চেয়ে বেশি আদায় আশা করছি। কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের (মোংলা) অপারেশন কর্মকর্তা লে. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, শুটকি মৌসুমে জেলেদের নিরাপত্তার জন্যে দুবলার চরে আমাদের ক্যাম্পে জনবল বাড়ানো হয়েছে। সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকা থেকে জেলেদের সুন্দরবনে যাওয়ার পথে নিরাপত্তা দেওয়ার লক্ষ্যে আমাদের নিরাপত্তা বোটগুলো সার্বক্ষণিক কাজ করছে। এছাড়া জেলেদের কাছে আমাদের মোবাইল নম্বর দেয়া হয়েছে। যে কোন বিপদে আমাদের জানালে আমরা তাত্ক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আর সুন্দরবনের দস্যু দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।