সোমবার ২৩ অক্টোবর, ২০১৭, রাত ১১:১৭

উত্তর কোরিয়াকে ঠেকাতে ট্রাম্পের বৈঠক

Published : 2017-10-12 20:18:00, Count : 472
অনলাইন ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার আক্ষরিক অর্থেই উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিসসহ কয়েক জন শীর্ষ স্থানীয় সামরিক উপদেষ্টার সঙ্গে মঙ্গলবার বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। যার বিষয়বস্তু ছিল, উত্তর কোরিয়ার আগ্রাসন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার বন্ধু দেশগুলোকে হুমকি দেয়া থেকে ঠেকাতে এই মুহূর্তে করণীয়।

গত সপ্তাহেই ইঙ্গিতটা দিয়ে রেখেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। টুইট করে বলেছিলেন, ‘একটা জিনিসেই এখন কাজ হবে’। উত্তর কোরিয়ার প্রতি বার্তাটা তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সরাসরি না বললেও তিনি যে ভেতরে ভেতরে যুদ্ধের প্রস্তুতিই নিচ্ছেন তা অনেকের কাছে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল।

পরিসংখ্যান বলছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে মোট ১৫টি পরীক্ষায় ২২ বার পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে কিম জং উনের দেশ। পিয়ং ইয়ং থেকে সরাসরি আমেরিকায় পরমাণু হামলার হুমকিও দিয়েছেন কিম। শাস্তি হিসেবে উত্তর কোরিয়ার উপর প্রতিবারই কোনও না কোনও কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকা। কিন্তু কিম তাতে দমেননি। খুব সম্প্রতি জাপান উপকূলের উপর দিয়ে দু’টি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) পরীক্ষা করেছে তারা।

পরমাণু পরীক্ষা না থামালে রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চ থেকে উত্তর কোরিয়াকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। পাল্টা ট্রাম্পকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে আক্রমণ করেছেন কিমও। দু’পক্ষে বাদানুবাদ অনেক দূর পর্যন্ত গড়িয়েছে।

কিন্তু এত দিন শুধু মুখে যুদ্ধের কথা বললেও এবার সরাসরি সেটি নিয়েই ভাবনা-চিন্তা শুরু করেছেন ট্রাম্প।
একই সঙ্গে কাল থেকে কোরীয় উপসাগরে বেড়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর তৎপরতাও। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পিয়ং ইয়ংকে শক্তি প্রদর্শন করতে কাল কোরীয় উপসাগরের ওপর দিয়ে উড়েছে দু’টি মার্কিন সুপারসনিক বোমারু বিমান।

শুধু তা-ই নয়, জাপান সাগরে কাল আমেরিকার সঙ্গে যৌথ মহড়া দিয়েছে জাপান আর দক্ষিণ কোরিয়ার বাহিনীও। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র স্পষ্টই জানিয়েছেন, এই মহড়ার মাধ্যমে আমেরিকা ও তার বন্ধুপক্ষ উত্তর কোরিয়াকে দেখাতে চায়, তারা যে কোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।

যদিও মার্কিন প্রতিক্ষামন্ত্রী সোমবার পর্যন্ত বলে এসেছেন তারা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আর কূটনৈতিক আলোচনার পথেই হাঁটতে চেষ্টা করবেন। তবে সেই সঙ্গেই তিনি এও বলেছেন যে, আমাদের সামরিকভাবে এমন প্রস্তুত থাকতে বে যে, প্রেসিডেন্ট চাইলেই তৎক্ষণাৎ সেই পথেও হাঁটা যায়।