সোমবার ২৩ অক্টোবর, ২০১৭, রাত ১১:১৭

কামিনী রায়ের জন্ম

Published : 2017-10-12 11:23:00, Count : 241

অনলাইন ডেস্ক : প্রথিতযশা বাঙালি কবি, সমাজকর্মী এবং নারীবাদী লেখিকা কামিনী রায়ের জন্ম বরিশালে, ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর। তিনি তত্কালীন ব্রিটিশ ভারতের প্রথম মহিলা স্নাতক ডিগ্রিধারী ব্যক্তিত্ব। কামিনী রায় একসময় ‘জনৈক বঙ্গমহিলা’ ছদ্মনামে লিখতেন। যে যুগে মেয়েদের শিক্ষাও বিরল ঘটনা ছিল, সেই সময়ে তিনি নারীবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর অনেক প্রবন্ধেও এর প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি নারী শ্রম তদন্ত কমিশনের সদস্য ছিলেন।

কামিনী রায় কলকাতা বেথুন স্কুল থেকে এন্ট্রান্স (মাধ্যমিক) ও ১৮৮৩ সালে এফএ (উচ্চ মাধ্যমিক সমমানের) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। বেথুন কলেজ থেকে তিনি ১৮৮৬ সালে সংস্কৃত ভাষায় সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি শিক্ষয়িত্রী পদে নিযুক্ত হন। পরবর্তীকালে তিনি অধ্যাপনাও করেছেন।

শৈশবে কামিনী রায়ের পিতামহ তাঁকে কবিতা ও স্তোত্র আবৃত্তি করতে শেখাতেন। এভাবেই তিনি খুব কম বয়স থেকেই সাহিত্য রচনা করেন ও কবিত্ব-শক্তির স্ফুরণ ঘটান। তাঁর জননীও তাঁকে গোপনে বর্ণমালা শিক্ষা দিতেন। মাত্র ৮ বছর বয়স থেকে তিনি কবিতা লিখতেন। তাঁর রচিত কবিতাগুলোতে জীবনের সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা, আনন্দ-বেদনার সহজ-সরল ও সাবলীল প্রকাশ ঘটেছে। পনের বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়।

কামিনী রায়ের লেখা উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হল-আলো ও ছায়া, নির্মাল্য, পৌরাণিকী, মাল্য ও নির্মাল্য, অশোক সঙ্গীত, অম্বা, দীপ ও ধূপ, জীবন পথে, একলব্য, দ্রোণ-ধৃষ্টদ্যুম্ন, শ্রাদ্ধিকী ইত্যাদি। অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত মহাশ্বেতা ও পুণ্ডরীক তাঁর দুটি প্রসিদ্ধ দীর্ঘ কবিতা। এছাড়াও ১৯০৫ সালে তিনি শিশুদের জন্য গুঞ্জন নামে কবিতা সংগ্রহ ও প্রবন্ধ গ্রন্থ বালিকা শিক্ষার আদর্শ রচনা করেন।

কামিনী রায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সংস্কৃত সাহিত্য দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। ১৯২৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’ প্রদান করে সম্মানিত করে। ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কামিনী রায়ের প্রয়াণ ঘটে।