রবিবার ২১ জানুয়ারি, ২০১৮, সন্ধ্যা ০৬:০৫

ইব্রাহীম খাঁর প্রয়াণ

Published : 2017-03-28 21:55:00
প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ একজন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন। ১৮৯৪ সালে টাঙ্গাইল জেলার শাবাজনগর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম।
ইব্রাহীম খাঁ করটিয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে করটিয়ার জমিদার ওয়াজেদ আলী খাঁ পন্নীর অর্থসাহায্যে করটিয়া সাদত কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে ইব্রাহীম খাঁ প্রথম প্রিন্সিপাল নিযুক্ত হন। মাঝে কিছুকাল তিনি ওকালতি করেন। অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইব্রাহীম খাঁ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীকালে তিনি একাধিকবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৪৬ সালে তিনি বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য এবং ১৯৫৩ সালে গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৪৭-১৯৭১ পর্যন্ত তিনি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং ১৯৪৮-১৯৫২ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি ছিলেন।
একজন কৃতবিদ্য লেখক হিসেবেও ইব্রাহীম খাঁর খ্যাতি ছিল। তিনি বিভিন্ন লেখায় মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণের কথা বলেছেন। নাটক, গল্প, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ২১। সেগুলোর মধ্যে কামাল পাশা, আনোয়ার পাশা, ঋণ পরিশোধ, আলু বোখরা, ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র, বাতায়ন, ব্যাঘ্র মামা এবং বেদুঈনদের দেশে উল্লেখযোগ্য। তাঁর স্মৃতিকথা বাতায়ন সমকালের মুসলিম সমাজের একটি দলিল হিসেবে বিবেচিত। তিনি ব্রিটিশ আমলে ‘খান সাহেব’ ও ‘খান বাহাদুর’ এবং পাকিস্তান আমলে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধি লাভ করেন। নাটকে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং সাহিত্যের জন্য একুশে পদক লাভ করেন।
১৯৭৮ সালের ২৯ মার্চ ইব্রাহীম খাঁর প্রয়াণ ঘটে।