শুক্রবার ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮, সকাল ০৭:৪০

পোশাক কারখানাগুলোকে গ্রীণ ফ্যাক্টরিতে রুপান্তর করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

Published : 2017-09-30 20:48:00

অনলাইন ডেস্ক : বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানির জন্য আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের তৈরি পোশাক কারখানা গুলোকে গ্রীণ ফ্যাক্টরিতে রুপান্তর করা হচ্ছে। বেশকিছু কারখানা ইতোমধ্যে গ্রীন ফ্যাক্টরিতে রুপান্তর করা হয়েছে। গ্রীণ ফ্যাক্টরি নির্মানের জন্য সরকার ব্যবসায়ীদেও আর্থিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে ট্যাক্স ৩৫ ভাগ থেকে কমিয়ে ১০ ভাগ নির্ধাণ করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার ঢাকায় একটি হোটেলে ফাইনান্স করপোরেশন (আইএফসি) আয়োজিত টুওয়ার্ডস সাসটেইনেবল টেক্সটাইল শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন,দেশে মোট ২০৮টি তৈরী পোশাক কারাখানাকে পর্যায়ক্রমে গ্রীণ ফ্যাক্টরী করা হচ্ছে। অপ্রত্যাশিত রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর দেশের সকল তৈরি পোশোক কালখানাগুলোকে নিরাপদ ও কর্মবান্ধব করা হয়েছে। নিরাপদ বিল্ডিং ও ফায়ার সেফটি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে তৈরি পোশাক কারখানাগুলো নিরাপদ ও কর্মবান্ধব করা হয়েছে। দেশে একের পর এক গ্রীন ফ্যাক্টরি নির্মাণ করা হচ্ছে কিন্তু ক্রেতারা পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করেছে না। তৈরি পোশাকের মূল্য বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। ক্রেতাদের এ বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহন করা উচিত্। শ্রমিকদের নিরাপত্তা, সুযোগ-সুবিধা ও উপযুক্ত বেতন নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন,  বাংলাদেশ গত অর্থ বছর প্রায় ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পন্য এবং ৩ বিলিযন মার্কিন ডলার মূল্যের সেবা রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে প্রায় ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এসেছে তৈরি পোশাক রপ্তানি করে।  এ শিল্পে প্রায় ৪৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছে এর ৮০ ভাগই নারী। কারখানার শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ ও উপযুক্ত বেতন ও ভাতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে স্থায়ী ও শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে ইন্টারন্যাশনাল ফাইনান্স করপোরেশন পার্টনারশিপ ফর ক্লিনার টেক্সটাইল (প্যাক্টে) এর মাধ্যমে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। প্রথম ফেজে দেশের ২০০ এর বেশি তৈরি পোশাক কারখানায় প্রতি বছর ২১.৬ বিলিয়ন লিটার পানি এবং ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত বাচাতে সহায়তা করেছে। দ্বিতীয় পর্বে অস্ট্রেলিয়া সরকারের সহায়তায় স্পিনিং থেকে শুরু করে উত্পাদনের শেষ পর্যায় পর্যন্ত টেক্সটাইল ভেল্যূ চেইনের সঙ্গে কাজ করছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন অর্থনৈতিক, সামাজিকসহ সকল ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, সে সময় মায়ানমার থেকে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। এটা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি। বাংলাদেশ আশা করছে যত দ্রুসম্ভব মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের যথাযথ মর্জাদা দিয়ে তাদের নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে নিবে।
ইন্টারন্যাশনাল ফাইনান্স করপোরেশনের কান্ট্রি ম্যানেজার মিসেস ওয়েন্ডি ওয়েরনারের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান এবং আইএফসির উচ্চপদস্থ র্কমকর্তাবৃন্দ।