সোমবার ২২ জানুয়ারি, ২০১৮, সন্ধ্যা ০৬:৩৬

মোতাহের হোসেন চৌধুরীর মৃত্যু

Published : 2017-09-18 14:03:00, Updated : 2017-09-18 14:08:13

অনলাইন ডেস্ক : মুসলমানদের চিন্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন মোতাহের হোসেন চৌধুরী । মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রবক্তা, মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে তার বিশেষ খ্যাতি রয়েছে । এ চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক ১৯৫৬ সালের এ দিনে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন ।

মোতাহের হোসেন চৌধুরী ১৯০৩ সালে নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সৈয়দ আবদুল মজিদ ও মা ফতেমা খাতুন। আবদুল মজিদ ছিলেন সাব-রেজিস্ট্রার। কর্মসূত্রে তিনি বাইরে থাকতেন। মোতাহেরের শৈশবেই তিনি মারা যান। এরপর নানার বাড়িতেই বেড়ে ওঠেন। কুমিল্লা ইউসুফ হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে আইএ ও বিএ পাস করেন। ১৯৪২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ পাস করেন। তার সহপাঠী ছিলেন মুহম্মদ আবদুল হাই ও আহমদ হোসেন। শিক্ষক ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, মোহিতলাল মজুমদার, আশুতোষ ভট্টাচার্য, জসীমউদ্দীন প্রমুখ।

ইউসুফ হাইস্কুলে শিক্ষকতার মাধ্যমে মোতাহেরের কর্মজীবনের সূচনা। ১৯৪৬ সালে তিনি কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে লেকচারার পদে যোগদান করেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর চট্টগ্রাম কলেজে যোগদান করে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত অধ্যাপনা করেন। এ কলেজে কথাসাহিত্যিক আবুল ফজলকে তিনি সহকর্মী হিসেবে পেয়েছিলেন।

কিশোর বয়সেই সাহিত্য সৃষ্টিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। কখনও ছদ্মনামে, কখনও স্বনামে লিখতে শুরু করেন। প্রথমদিকে ‘কবিতা’ লিখলেও পরে গদ্য লেখায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন। তিনি ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন এবং এর সভা ও সম্মেলনে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। তার রচিত ‘আমাদের দৈন্য’, ‘আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী’ ও ‘মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা’ প্রবন্ধ যথাক্রমে সাহিত্য সমাজের পঞ্চম (১৯৩১), ষষ্ঠ (১৯৩২) ও অষ্টম (১৯৩৪) বার্ষিক সম্মেলনে পঠিত হয়। এ ছাড়া তার ‘রবীন্দ্রনাথ ও বৈরাগ্যবিলাস’ প্রবন্ধটি সমাজের মুখপত্র শিখার পঞ্চম বর্ষে প্রকাশিত হয়। বিচিত্রা, মোহাম্মাদী, সওগাত, ছায়াবীথি, বুলবুলসহ তখনকার প্রধান সাহিত্য পত্রিকাতে লিখতেন। তার লেখায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জসীমউদদীন ও তিরিশের কবিদের কারো কারো ভাব ও শৈলীর ছাপ পাওয়া যায়।

সংস্কৃতি কথা (১৯৫৮) মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ। দ্বিতীয় গ্রন্থ সুখ (১৯৬৫) বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং তৃতীয় গ্রন্থ সভ্যতা (১৯৬৫) ক্লাইভ বেলের Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ।