বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর, ২০১৭, রাত ১২:২২

চাল মজুদের প্রমাণ পেলেই গ্রেফতার : বাণিজ্যমন্ত্রী

Published : 2017-09-13 23:49:00,
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, অবৈধভাবে চাল মজুদের বিরুদ্ধে সরকার অভিযান শুরু করেছে। যেসব মজুদদারের গোডাউনে চাল মজুদের প্রমাণ পাওয়া যাবে তাদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হবে।
গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর অফিস কক্ষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, বন্যায় ফসলহানির পর চাল ও গমের ওপর নির্ধারিত ২৮ শতাংশ ট্যারিফ হ্রাস করে প্রথমে ১০ শতাংশ এবং পরে ২ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। ফলে ব্যক্তি পর্যায়েও চাল-গম আমদানি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশে চালের কোনো ঘাটতি নেই। বর্তমানে দেশে ৬ লাখ ৬১ হাজার টন চাল মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে ৪ লাখ ৪৭ হাজার টন চাল গুদামে মজুদ রয়েছে। আর ১ লাখ ১৪ হাজার টন চাল জাহাজে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে।
পঞ্চগড়ে প্রতিদিনই লাফিয়ে বাড়ছে চালের দাম
পঞ্চগড় প্রতিনিধি সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম জানান, বিদেশ থেকে আমদানি করা চালের শুল্ক দুই দফা কমিয়েও চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসছে না। উত্তরের ১৬ জেলায় দাম কমার পরিবর্তে প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে চালের দাম। লাগামহীন হয়ে পড়েছে চালের বাজার। সরকার চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে বিদেশ থেকে আমদানি করা চালে শতকরা ২৮ ভাগ শুল্ক দুই দফা কমিয়ে দুই ভাগে নামিয়ে আনে। শুল্ক রেয়াতের চাল দেশে ঢোকার পর থেকে বাজার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কয়েক দিনের মাথায় আবারও দাম বৃদ্ধি শুরু করে চালের বাজার চলে যায় সিন্ডিকেটের দখলে। বর্তমানে প্রতিদিনই বস্তাপ্রতি দাম  বাড়ছে ৫০ থেকে একশ’ টাকা করে। গ্রামাঞ্চলের হাঁটবাজারগুলোতে কেজিপ্রতি চাল ৫০ টাকার নিচে মিলছে না।
বিশিষ্টজনরা বলছেন, ডলারের মূল্য কম-বেশি হলে আমদানি করা চালের দাম কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। সেই দামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশে উত্পাদিত চালের দাম বৃদ্ধির জন্য দায়ী অটোরাইস মিল মালিকরা। বাজার থেকে সব ধান কিনে মজুদ করে কৃত্রিম সঙ্কট দেখিয়ে সিন্ডিকেট করে তারা চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।
বিদেশ থেকে চাল আমদানির আগে ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা পারিজাত চাল বিক্রয় হয় ২ হাজার ২৮০ টাকা থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা দরে। খুচরা বাজারে সেই চাল বিক্রয় হয় কেজিপ্রতি ৪৭ থেকে ৪৮ টাকা দরে। চাল আমদানির পর সেই চালের দাম বস্তাপ্রতি দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৫০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকায়। খুচরা বাজারে এই চাল বিক্রি হতে থাকে কেজিপ্রতি ৪১ থেকে ৪২ টাকা দরে। বর্তমানে সেই চাল প্রতি বস্তা পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। আর খুচরা পর্যায়ে তা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫১ থেকে ৫২ টাকা দরে। চাল আমদানির আগে বিআর-২৮ চাল প্রতি বস্তা পাইকারি বিক্রি হয়েছিল মানভেদে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। বর্তমানে সেই চাল বিক্রি হচ্ছে বস্তা প্রতি ২ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকায়। বর্তমানে খুচরা বাজারে এই চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৫৯ টাকায়। বিআর-২৯ চালও বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫৬ থেকে ৫৮ টাকা দরে। অথচ বিদেশ থেকে চাল আমদানির পর এই চাল বিক্রি হয়েছিল বস্তাপ্রতি ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। বর্তমানে মিনিকেট চাল উত্তরাঞ্চলের বাজারে প্রতি কেজি ৬১ থেকে ৬২ এবং অন্যান্য মিনিকেট চাল ৫৯ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

 

আরও খবর