বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর, ২০১৭, রাত ১২:২২

বিস্ফোরণে এবার বাংলাদেশি নিহত: সীমান্তে মাইন পাতা অব্যাহত রেখেছে মিয়ানমার

Published : 2017-09-13 23:43:00,
বান্দরবান প্রতিনিধি: আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বান্দরবান সীমান্তের জিরো পয়েন্টে কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন মাইলের পর মাইল জায়গা জুড়ে শত শত স্থলমাইন পাতা অব্যাহত রেখেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তাদের এই কর্মকাণ্ডের ফলে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে অনুপ্রবেশের সময় মাইনের বিস্ফোরণে হতাহত হচ্ছে রোহিঙ্গারা।
মঙ্গলবার রাতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার আশারতলী সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে হাশেম উল্লাহ (৪২) নামে এক বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। তার বাড়ি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার আদর্শ গ্রামে।
স্থানীয়রা জানায়, সন্ধ্যার দিকে সীমান্তের ৪৪নং পিলারের কাছে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে গরু আনতে যান হাশেম উল্লাহ। এ সময় পেতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এতে আহত রোহিঙ্গা আবদুল কাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা সদরে নিয়ে আসা হয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সরওয়ার কামাল জানান, দুটি মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় এক গরু ব্যবসায়ী নিহত ও এক রোহিঙ্গা আহত হয়েছেন। আহত রোহিঙ্গাকে চিকিত্সার জন্য উপজেলা সদরে নিয়ে আসা হয়েছে।
এদিকে বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি-আলীকদম উপজেলার সীমান্তে প্রায় ৬৭ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন এলাকায় মাটির নিচে স্থলমাইন পেতে রাখার কাজ অব্যাহত রেখেছে মিয়ানমার।
নব্বইয়ের দশকে সীমান্ত এলাকায় মাইন পেতে রাখা হয়েছিল, কিন্তু সম্প্রতি মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর নিষিদ্ধ অ্যান্টি-পার্সোনাল মাইন পেতেছে বলে অভিযোগ তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। যদিও মিয়ানমারের কর্মকর্তারা এই অভিযোগও অস্বীকার করেছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা যাতে আবার মিয়ানমারে প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য অ্যান্টি-পার্সোনাল মাইন পেতে রাখা হয়েছে। অ্যান্টি-পার্সোনাল মাইনের কারণে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নানা সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর গুলি ও স্থলমাইন বিস্ফোরণে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নারী-শিশুসহ প্রায় একশ’ জন চিকিত্সাধীন রয়েছে।
বিজিবি ৩১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আনোয়ারুল আজিম জানান, মিয়ানমার আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সীমান্তের কাঁটাতার ঘেঁষে স্থলমাইন ও বিস্ফোরক পেতে রেখেছে। তার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি। এখনও কোনো উত্তর পাইনি।  
এদিকে নাফ নদীতে নৌকা ডুবে বুধবার আরও সাত শিশুসহ মোট একশ’ রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।      

 

আরও খবর