মঙ্গলবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, সকাল ০৮:০৬

জিয়া পরিবারের টাকা পাচারের রিপোর্ট হাতে এসেছে: প্রধানমন্ত্রী

Published : 2017-09-13 23:46:00, Count : 210
সংসদ প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, জিয়া পরিবারের দুবাইসহ ১২টি দেশে ১২শ’ কোটি টাকা পাচার সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গোয়েন্দা সংস্থা গ্লোবাল ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্কের (জিআইএন) রিপোর্ট সরকারের হাতে এসেছে এবং এ নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে জিআইএনের রিপোর্টের সত্যতা প্রমাণিত হলে যারা দেশের জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করেছে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পাচারকৃত অর্থ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফেরত আনা হবে।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ৩০ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সাংসদ ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।  
প্রশ্ন করতে গিয়ে ফখরুল ইমাম জিআইএনের রিপোর্টের কিছু অংশ তুলে ধরে বলেন, জিআইএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী শুধু দুবাই নয়, অন্তত ১২টি দেশে জিয়া পরিবারের সম্পদ আছে। যার প্রাক্কলিত মূল্য ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। সৌদি আরবে আহমদ আল আসাদের নামে আল আরাবা শপিং মল রয়েছে। কিন্তু শপিং মলটির মালিকানা হল খালেদা জিয়ার। কাতারে রয়েছে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন ইকরা। এর মালিকও বাংলাদেশি এবং এটিরও উনি এবং উনার ছোট ছেলে আরাফাত রহমানের নামে পুরো মালিকানা দেখা যায়। তাছাড়া খালেদা জিয়ার ভাতিজা তুহিনের নামে কানাডায় ৩টি বাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সিঙ্গাপুরের হোটেল ম্যারেন্ডির ১৩ হাজার শেয়ারের মালিক। বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের নামে লন্ডনে স্ট্যান্ডফোর্ড ও অলগেটিতে দুটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। আরেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নামেও অ্যাপার্টমেন্ট আছে। বিএনপি আমলের মন্ত্রী মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর নামে দুবাইতে আছে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট। সিঙ্গাপুরেও মির্জা আব্বাস তার সন্তানদের নামে কিনেছেন ২টি অ্যাপার্টমেন্ট। বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খানের নামে সিঙ্গাপুরে রয়েছে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট। এসব তথ্য জিআইএন প্রতিবেদন থেকে তুলে ধরলাম।
এর জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তথ্যগুলো যখন বের হয়েছে তখন নিশ্চয় আমাদের কাছে আছে এবং এটা নিয়ে তদন্ত চলছে। আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। এই তদন্তের মাধ্যমে এ তদন্ত যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এ কথা তো সবাই জানে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর একদিকে মানুষ হত্যা-খুন করেছে। আন্দোলনের নামে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। একদিকে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ, অন্যদিকে ক্ষমতায় থাকতে দুর্নীতি করা, অর্থ পাচার করা এ ধরনের বহু অভিযোগ তো জনগণ সব সময় করেছে এবং এটা সবাই জানে। এজন্য খালেদা জিয়ার ছোট ছেলের পাচারকৃত কিছু টাকা আমরা ফেরত এনেছি। বাংলাদেশের ইতিহাসে পাচার করা সম্পদ ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে আমাদের সরকারের আমলে।
সরকারপ্রধান বলেন, জনগণের সম্পদ যারা লুটে নিয়েছে নিশ্চয় তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত করে যখনই আমরা সঠিক তথ্য পাব কোথায় কীভাবে রয়েছে নিশ্চয় আমরা ফেরত আনার পদক্ষেপ নেব। ইতোমধ্যে আমরা কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। তদন্ত চলার স্বার্থে হয়তো সব আমি বলতে পারলাম না। তবে সত্যতা প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারদলীয় সাংসদ মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একটি শান্তিপ্রিয় দেশ গঠনে সরকার সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে আসছে। এ কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সরকারের দক্ষ পরিচালনায় অর্থনীতির সব সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। সামাজিক সূচকগুলোর অগ্রগতিতে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে।
সংসদ নেতা আরও বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার তার বিগত মেয়াদ হতে রূপকল্প-২০২১, দিনবদলের সনদ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল আধুনিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার কর্মসূচি গ্রহণ করে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সরকার সুখী-সমৃদ্ধ মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ গঠনে বদ্ধপরিকর।
সরকারদলীয় সাংসদ ফরিদুল হক খানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জঙ্গি কর্মকাণ্ড একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম নয়। তবে আমাদের মানুষ ধর্মভীরু হলেও ধর্মান্ধ নয়। ফলে ইতোমধ্যে জঙ্গি দমনে আমাদের সফলতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হচ্ছে। জঙ্গি দমনে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।
তিনি বলেন, জঙ্গিরা যেমন নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার চেষ্টা চালাচ্ছে, তেমনি তাদের অর্থের জোগানদাতা ও মদদদাতারাও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে।
তিনি জানান, বিদেশ থেকে আসা রেমিট্যান্স এবং দেশীয় অর্থ কোনো জঙ্গি তত্পরতায় ব্যবহূত হচ্ছে কি না এ বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া কোনো বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল, ক্লিনিক, কোচিং সেন্টার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এনজিও, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে জঙ্গি তত্পরতা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, সীমান্তে অবৈধ অর্থের লেনদেন, আদান-প্রদান, চলাচল ও স্থানান্তর একই সঙ্গে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিস, মোবাইল ব্যাংকিং ও বিকাশের মাধ্যমে অস্বাভাবিক অর্থ আদান-প্রদান হচ্ছে কি না সে বিষয়ে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

আরও খবর