বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর, ২০১৭, রাত ১০:৪৫

‘অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন (সংশোধন) বিল-২০১৭’ সংসদে উত্থাপন

Published : 2017-09-13 23:36:00,
সংসদ প্রতিবেদক: মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের ক্ষেত্রগুলো সম্প্রসারণ ও বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন (সংশোধন) বিল-২০১৭’ উত্থাপন করা হয়েছে। গতকাল সংসদে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বিলটি উত্থাপন করেন।
বিলে আত্মীয়-স্বজনদের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে। বিলে কোনো হাসপাতাল সরকারের অনুমতি ছাড়া মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করতে পারবে না বলে বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। সংযোজনের অনুমতির জন্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সরকার বরাবর আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্ত পূরণ করলে হাসপাতালকে অনুমতি দেওয়া হবে।
কোনো হাসপাতাল এ বিধান লঙ্ঘন করলে ওই প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা যাবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্থাপিত বা প্রতিষ্ঠিত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন সংক্রান্ত হাসপাতালের বিশেষায়িত ইউনিটে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের ক্ষেত্রে অনুমতির প্রয়োজন হবে না। বিলে সুস্থ, স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন কোনো জীবিত ব্যক্তির এমন কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিযুক্তির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপনে ব্যাঘাত সৃষ্টির আশঙ্কা না থাকলে তা কোনো নিকটাত্মীয়ের দেহে সংযোজনের জন্য দান করতে পারবেন বলে বিধানে প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে শর্ত থাকে চক্ষু ও অস্থিমজ্জা সংযোজন বা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নিকটাত্মীয় হওয়ার প্রয়োজন হবে না। বিলে
কোনো ব্যক্তি জীবদ্দশায় স্বেচ্ছায় তার কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ লিখিতভাবে দান করলে তা উক্ত ব্যক্তির ব্রেইন ডেথ ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্য কোনো ব্যক্তির দেহে সংযোজনের উদ্দেশ্যে বিযুক্ত করা যাবে বলে বিধানে প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলে ব্রেইন ডেথ ঘোষণা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দাতা, গ্রহীতার যোগ্যতা বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ব্রেইন ডেথ ঘোষিত ব্যক্তির ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহের ক্ষেত্রে বয়স ২ বছরের কম অথবা ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে হলে তা সংগ্রহ করা যাবে না। তবে চক্ষু ও অস্থিমজ্জা সংযোজন বা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে না। জীবিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে বয়স ১৮ বছরের কম অথবা ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে হলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ করা যাবে না। তবে শর্ত থাকে পুনঃউত্পাদনশীল টিস্যুর ক্ষেত্রে দাতা ও গ্রহীতা রক্ত সম্পর্কিত ভাই-বোন হলে অথবা চক্ষু, অস্থিমজ্জা সংযোজন বা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে না। এ ছাড়া মৃত্যুর পূর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানে লিখিত আপত্তি করলে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা কোনো কারণে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে, চক্ষু, অস্থিমজ্জা ও যকৃত প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে, এইচবিএসএজি, অ্যান্টি এইচসিবি অথবা এইচআইভি পজেটিভ থাকলে, মেডিক্যাল বোর্ড কর্তৃক অযোগ্য ঘোষণা করা হলে, চর্ম বা মস্তিষ্কের প্রাইমারি স্টেজ ক্যানসার ব্যতীত অন্য যেকোনো ধরনের ক্যানসার, কিডনি সংক্রান্ত রোগ, এইচআইবি বা হেপাটাইটিস ভাইরাস, মেলিগন্যান্ট হাইপারটেনশন, জীবাণু সংক্রান্ত রোগ থাকলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রদানে উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবে না বলে বিধানে প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিলে বয়স ২ থেকে ৭০ বছর সীমার মধ্যে না হলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হবেন না। তবে শর্ত থাকে ১৫ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত বয়সসীমার ব্যক্তিরা কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গ্রহীতা হিসেবে অগ্রাধিকার পাবেন। আরও শর্ত থাকে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে না। আর  অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন বা প্রতিস্থাপনে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন ও এর কার্যাবলি, প্রত্যয়ন বোর্ড গঠন ও এর কার্যাবলি, ক্যাডাভেরিক জাতীয় কমিটি গঠন ও এর কার্যাবলি, ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন পদ্ধতি, রেজিস্ট্রার সংরক্ষণসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলে উল্লিখিত বিধান লঙ্ঘনের যেকোনো ব্যক্তি ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পৃথক দণ্ডের বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে।