বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর, ২০১৭, রাত ১২:২৮

অষ্টম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান: যৌন নির্যাতন থেকে বাঁচার কৌশল নিয়ে বিতর্ক

Published : 2017-09-13 23:34:00,
নিজস্ব প্রতিবেদক: অষ্টম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান বিষয়ের পাঠ্যবইয়ে ছাত্রীদের যৌন নির্যাতন থেকে বাঁচার কিছু পরামর্শ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা করা হচ্ছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রণীত এই বইয়ে বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা থেকে নিজেকে রক্ষা করা সংক্রান্ত সপ্তম অধ্যায়ে যৌন নিপীড়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বলা হয়েছে। বইটির ৬৫ নম্বর পৃষ্ঠায় পাঠ-৩-এ বলা হয়েছে, যৌন নিপীড়ন সমবয়সীরা ছাড়াও যেকোনো নিকট আত্মীয়, পরিচিত ব্যক্তি, বয়স্ক সদস্যের মাধ্যমে হতে পারে। এসব প্রতিকূল অবস্থা থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। এ জন্য বইয়ে দেওয়া সতর্কতামূলক কার্যক্রম সম্পর্কে বলা হয়েছে-বাড়িতে কখনই একা না থাকা, অন্যকে আকর্ষণ করে এমন পোশাক না পরা, পরিচিত কিংবা অপরিচিত ব্যক্তি গায়ে হাত দিলে তাকে এড়িয়ে যাওয়া বা পরিত্যাগ করা, পরিচিত-অপরিচিত কারও সঙ্গে একা বেড়াতে না যাওয়া,
পাড়ার বখাটে দলের হয়রানিতে সরাসরি প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে কৌশলে উপেক্ষা করা, যেমন-জুতা খুলে দেখানো, চড় দেখানো, গালাগাল ইত্যাদি না করে বুদ্ধির সঙ্গে পরিস্থিতি সামলানো।
গত প্রায় ছয় বছর ধরে পাঠদান করা এই গার্হস্থ্য বিজ্ঞান বইটির প্রথম মুদ্রণ হয় ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। গত বছর বইটির পুনর্মুদ্রণ করা হয়। বইটি রচনা করেছেন ছয়জন নারী লেখক ও সম্পাদনা করেছেন দুজন নারী।
সম্প্রতি ফেসবুকে বইটির বিষয়বস্তু নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নানা মন্তব্য করা হচ্ছে। অনেকে বলেছেন, যৌন নির্যাতন বা নিপীড়নের ঘটনায় এমনিতেই সব সময় মেয়েদের ঘাড়ে দোষ চাপানো হয়। আর প্রথমেই পোশাকের বিষয়ে আঙুল তোলা হয়। এখন পাঠ্যপুস্তকেও এ বিষয়টিকেই সমর্থন দেওয়া হয়েছে।
অনেক শিক্ষকই জানান, তারা পাঠ্যবইয়ের এসব বিষয়ের সঙ্গে একমত নন। কিন্তু পাঠ্যবইয়ে আছে বলে শিক্ষার্থীদের এ সব বিষয় পড়াতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থীই প্রশ্ন করে তারা কোথায় নিরাপদ থাকবে, কী ধরনের পোশাক পরবে, যা অন্যদের আকর্ষণ করবে না। এ সব প্রশ্নে তারা বিব্রত হন।