মঙ্গলবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, সকাল ০৭:৫১

টেলিফোন অপারেটর পদে চাকরি পেলেন সিদ্দিকুর

Published : 2017-09-13 23:34:00, Count : 119
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর শাহবাগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় টিয়ার শেলের আঘাতে চোখ হারানো সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমান টেলিফোন অপারেটর পদে চাকরির নিয়োগপত্র পেয়েছেন। সরকারি প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডে (ইডিসিএল) এক বছরের জন্য অস্থায়ীভিত্তিতে তাকে এ চাকরি দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর তিনি কর্মস্থলে যোগদান করবেন। তার বেতন ধরা হয়েছে ১৩ হাজার টাকা। এর সঙ্গে আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধাও পাবেন তিনি। তবে এক বছর পর চাকরি স্থায়ী হলে তার বেতন হবে ২৩ হাজার টাকা।
গতকাল সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। টিয়ার শেলের আঘাতে চোখ হারানোর কারণে সিদ্দিকুর রহমানকে সরকারি চাকরির আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনাটি অনেক কষ্টের ও বেদনাদায়ক। তবে সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি দিতে পারাটা স্বস্তিদায়ক। সিদ্দিকুরের প্রতি সরকারের নজর থাকবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, চোখ রক্ষা করতে সিদ্দিকুরের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু সেটা সফল হয়নি। তবে তিনি এক চোখে ঝাপসা দেখতে পান। সে ক্ষেত্রে চাকরির পাশাপাশি তিনি পড়াশোনাও চালিয়ে যাবেন।
অনুষ্ঠানে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এখন সে চিন্তা করে লাভ নেই। তারপরও স্বপ্ন বাস্তবায়নে চেষ্টা চালিয়ে যাব। দেখা যাক, কতদূর কী করা যায়? তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সাংবাদিক, শিক্ষক ও বন্ধুদের ধন্যবাদ জানান এবং তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
নিয়োগপত্র হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. এহসানুল কবির জগলুল প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, পরীক্ষার রুটিন ও তারিখ ঘোষণাসহ কয়েকটি দাবিতে গত ২০ জুলাই শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে পুলিশের ছোড়া টিয়ার সেলে চোখে গুরুতর আহত হন তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমান। পরে তাকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার ডান চোখে আলো ফেরার সম্ভাবনা নেই এবং বাম চোখের অবস্থাও ভালো না বলে জানিয়ে দেন চিকিত্সকরা। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের তত্ত্বাবধানে তাকে ভারতের চেন্নাইয়ের শংকর নেত্রালয়ে উন্নত চিকিত্সার জন্য পাঠানো হয়। সেখানে অস্ত্রোপচার করেও সিদ্দিকুরের চোখে আলো ফেরেনি।