সোমবার ২২ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ০২:৪৩

মৌচাক-২ লঞ্চের যাত্রী: পারভীনসহ দুজনের লাশ উদ্ধার

Published : 2017-09-13 23:33:00
মো. নুরুল আমিন, শরীয়তপুর: শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদীর তীব্র সে াতে পন্টুন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডুবে যাওয়া তিনটি লঞ্চের উদ্ধারে অভিযান চালালেও গতকাল রাত পর্যন্ত এমভি নড়িয়া-২ ও এমভি মহানগর লঞ্চের সন্ধান মেলেনি। এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে পদ্মায় প্রবল সে াতের কারণে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় শনাক্তকরা মৌচাক-২ নামে লঞ্চটি উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়ে তীরে ফিরে যায়।
এদিকে লঞ্চডুবির তিন দিন পর মৌচাক-২ লঞ্চের যাত্রী ও নবজাতকের মা পারভীন আক্তারসহ ২৫-৩০ বছর বয়সের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে গতকাল সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যুবকের কোনো পরিচয় পওয়া যায়নি। নড়িয়া থানা, নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও সরেজমিন
জানা গেছে, গত সোমবার ভোর ৫টার দিকে হঠাত্ করে নড়িয়ার পদ্মা নদীর ওয়াপদা লঞ্চঘাটে অবস্থিত পন্টুনের সামনে তীব্র সে াতের কারণে ২-৩ শতাংশ জমি নিয়ে পদ্মার পাড় দেবে যায়। এতে পন্টুনের পাশে ও পদ্মার পাড়ে নোঙর করা তিনটি লঞ্চ পন্টুন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পানির তোরে ডুবে যায়। ডুবে যাওয়া লঞ্চগুলোর মধ্যে গত মঙ্গলবার মৌচাক নামের লঞ্চটি  নড়িয়া পদ্মা নদীর দুলারচর নামক স্থানে সন্ধান পাওয়া গেলে নদীতে তীব্র সে াত ও ঘোলা পানির কারণে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়ে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় তীরে ফিরে যায়। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এমভি নড়িয়া-২ ও এমভি মহানগর লঞ্চের কোনো সন্ধান করতে পারেনি উদ্ধারকারী দল।
তারা জানিয়েছে, নদীতে তীব্র সে াত ও ঘোলা পানির কারণে আধুনিক যন্ত্র দিয়েও কোনো সন্ধান করতে পারছেন না। গতকাল সকালে পদ্মা পাড়ের সুরেশ্বর এলাকা থেকে ২৫-৩০ বছর বয়সের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। একই এলাকা থেকে মৌচাক লঞ্চের যাত্রী ও এক নবজাতকের মা পারভীন আক্তারের লাশ উদ্ধার করা হয়। পারভীনের লাশ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে স্থানীয় প্রশাসন। তিনটি লঞ্চের যাত্রী ও কর্মচারী মিলিয়ে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন নিখোঁজ ছিল। তবে প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী নিখোঁজ রয়েছেন ১৩ জন।
পারভীনের স্বজনরা জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার লোনশিং গ্রামের মোহাম্মদ আলী মাদবরের স্ত্রী পারভীন আক্তার। অনেক আনন্দ নিয়ে মৌচাক লঞ্চে ৫ দিনের নবজাতক কন্যাসন্তান, স্ত্রী ও শাশুড়িকে নিয়ে লঞ্চে বাড়ি ফিরছিলেন মোহাম্মদ আলী। সোমবার ভোরে লঞ্চটি যখন ঘাটে পৌঁছে তখন বাইরে অন্ধকার থাকায় তারা লঞ্চে অপেক্ষা করছিলেন। ভোর ৫টার দিকে হঠাত্ নদীভাঙন ও তীব্র সে াতের কারণে পন্টুন থেকে বিছিন্ন হয়ে লঞ্চটি তলিয়ে যায়। মোহাম্মদ আলী কোনো রকমে সাঁতরে তীরে উঠলেও নিখোঁজ হয় তার নবজাতক কন্যাসন্তান, স্ত্রী পারভীন আক্তার ও শাশুড়ি ফকরুন্নেছা বেগম।
এদিকে যতই দিন পার হচ্ছে ততই লাশ না পাওয়ার শঙ্কায় পড়ছে নিখোঁজদের স্বজনরা। তারা হারানো স্বজনদের ছবি হাতে নিয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পদ্মা নদীর পাড়ে সুরেশ্বর, ওয়াপদা, চণ্ডীপুর লাশের অপেক্ষায় আহাজারি করছেন। আবার কেউ কেউ নৌকা ট্রলার নিয়ে নদীতে লাশ খোঁজাখুঁজি করছে।
বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক (উদ্ধার) বজলুর রহমান ও নৌ-বাহিনীর ডুবুরি দলের প্রধান লে. কাওসারুল ইসলাম বলেন, প্রবল সে াতের কারণে মৌচাক-২ লঞ্চটি এখন উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। লঞ্চটিকে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে। সে াত কমে গেলে উদ্ধার করা সম্ভব হবে। নদীতে তীব্র সে াত ও ঘোলা পানির কারণে ডুবে যাওয়া অন্য দুটি লঞ্চ শনাক্ত করতে সমস্যা হচ্ছে। আগমীকাল (আজ) আমাদের আরও একটি উদ্ধার টিম ঘটনাস্থলে আসার কথা রয়েছে।
নড়িয়া থানার ওসি মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, উদ্ধার হওয়া যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হোসাইন খান বলছেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে কথা বলেছি। তীব্র সে াতের কারণে উদ্ধার অভিযানে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আশা করি শিগগিরই একটা সফলতা আসবে।