শনিবার ২০ জানুয়ারি, ২০১৮, ভোর ০৫:৪১

আবারও ফেরিঘাটে যানজট, ভোগান্তি

Published : 2017-09-13 23:16:00
গোয়ালন্দ ও শিবচর সংবাদদাতা: ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার মাত্র তিন দিন পর আবার দৌলতদিয়া ও শিমুলিয়া ফেরিঘাটে তীব্র যানজট শুরু হয়েছে। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে চারটি ফেরিতে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফের ফেরি সঙ্কটে যানবাহন পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে দৌলতদিয়ায় যাত্রীবাহী বাসের দীর্ঘ সারির পাশাপাশি তিন দিনেও নদী পারাপার হতে পারেনি ৫ শতাধিক ট্রাক। এর মধ্যে ভারত থেকে আমদানি করা ১শ’ চালবাহী ট্রাক রয়েছে। অন্যদিকে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে নাব্যতা সঙ্কট ও ডুবোচর প্রকট আকার ধারণ করায় বড় ফেরি চলাচল করতে না পারায় সেখানেও তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। এর আগে ঈদের ছুটি শেষে প্রায় ১০ দিন ধরে উভয় ঘাটে যানজট
লেগে ছিল। গত রোববার দুটি ঘাটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হলে যানজট কমে আসে।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, ঈদ পরবর্তী সময়ে বাড়তি যাত্রী ও যানবাহনের চাপ সামাল দিতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের ফেরি বহরের ১৯টি ফেরির পাশাপাশি শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুট থেকে এনায়েতপুরী ও ক্যামেলিয়া নামের আরও দুটি ফেরি এ রুটে আনা হয়। তখন মোট ২১টি ফেরি দিয়ে যানবাহনের চাপ সামাল দেওয়া হয়। গত সোমবার ফেরি দুটি শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই দিন সন্ধ্যায় ইঞ্জিন সমস্যায় বিকল হয়ে পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানায় মেরামতে আছে রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান। চার দিন ধরে কে-টাইপ ফেরি কুমারী ও ৯ দিন ধরে ইউটিলিটি ফেরি চন্দ  মল্লিকা বিকল হয়ে পাটুরিয়া ভাসমান কারখানা মধুমতীতে রয়েছে। এছাড়া ইঞ্জিন দুর্বলের কারণে রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান রাতে চলাচল করতে পারছে না। এর আগে বড় মেরামতের জন্য কে-টাইপ কপোতীকে নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এই নৌপথে ছোট-বড় ১৪ থেকে ১৫টি ফেরি চলাচল করছে।
গত মঙ্গলবার যান্ত্রিক ত্রুটিতে রো রো ফেরি খানজাহান আলী, ইউটিলিটি ফেরি হাসনা হেনা ও বনলতা বিকল হয়। ফেরিগুলো আইটি জাহাজের সাহায্যে পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানায় নেওয়া হয়। একই দিন পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে এসে দৌলতদিয়ার ১ নম্বর ঘাটের কাছে এসে রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। ফেরিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুনের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে ফেরিটি বিকলসহ পন্টুন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফেরিগুলো দ্রুত মেরামত শেষে মঙ্গলবার রাতের মধ্যে পুনরায় চলাচল শুরু করে।
পাটুরিয়া ভাসমান কারখানা মধুমতীর প্রকৌশলী এনামুল হক অপু জানান, কুমারী ফেরিটির ভেঙে যাওয়া যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন করতে হবে বলে একটু সময় লাগছে। আংশিক মেরামত শেষে ফেরি খানজাহান আলী চলাচল শুরু করেছে। ফেরি শাহজালালের মেরামত কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। তীব্র স্রোতের বিপরীতে চলাচল করতে গিয়ে ফেরিগুলো ঘন ঘন বিকল হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
সরেজমিন বুধবার দুপুরে ঘাট এলাকায় দেখা যায়, দৌলতদিয়ার দুটি বিশাল টার্মিনালে তিন দিন ধরে ২ শতাধিক ট্রাক আটকে আছে। এর মধ্যে ভারত থেকে পণ্য নিয়ে আসা অন্তত ১শ’ ট্রাক রয়েছে। এর বাইরে মহাসড়কে আটকে আছে ৩ শতাধিক যানবাহন।
বরিশাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরগামী সুতাবাহী ট্রাকচালক মো. হাসান আলী জানান, তিন দিন ধরে মহাসড়কের দীর্ঘ সিরিয়ালে আটকে থাকার পর বুধবার টার্মিনালে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছি। জানি না কবে ফেরির নাগাল পাব। তার মতো অসংখ্য পাকা মালের ট্রাকচালকরা দিনের পর দিন এভাবে ঘাটে পড়ে আছে বলে তিনি জানান।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া অফিসের সহকারী ব্যবস্থাপক আবু আবদুল্লাহ রনি জানান, বর্তমানে ১৫টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় ফেরি কম এবং যানবাহনের অধিক চাপের কারণে নদী পার হতে আসা যানবাহনগুলো আটকা পড়ছে।
অন্যদিকে শিমুলীয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে নাব্যতা সঙ্কট ও ডুবোচর প্রকট আকার ধারণ করায় ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বিকল্প চ্যানেল দিয়ে ফেরি সার্ভিস চালু হলেও পারাপারে দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে। রো রো ফেরিগুলো ধারণ ক্ষমতার কম যানবাহন নিয়ে পারাপার হচ্ছে। নাব্যতা সঙ্কট নিরসনে নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রম চালু থাকায় রো রো ফেরিগুলো ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কম যানবাহন নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। আর কয়েকটি স্থান ওয়ানওয়ে থাকায় ফেরিগুলো প্রায় এক ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে পারাপার হচ্ছে। এতে ঘাট এলাকায় ৩ শতাধিক যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকে আছে।