মঙ্গলবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, সকাল ০৮:০৩

অবৈধ বালু উত্তোলন: বন্ধ করতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে

Published : 2017-09-13 22:27:00, Count : 98
অবৈধ বালু উত্তোলন থামছেই না। অথচ নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ভেঙে ফসল এবং অন্যান্য সম্পদের বিপুল ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নতুন নয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে বারবার সচিত্র প্রতিবেদন ও নিবন্ধ প্রকাশিত হলেও কর্তৃপক্ষ অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে-এমনটি লক্ষ করা যায়নি। ফলে এদের অপতত্পরতা বন্ধ হচ্ছে না।
অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা বেশি লাভের আশায় বেশিরভাগ সময় বেড়িবাঁধের কাছ থেকেই বালু উত্তোলন করে থাকে। এতে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে, যার প্রথম শিকার হয় নদীতীরবর্তী দরিদ্র মানুষ। অনেক সময় লক্ষ করা যায়, অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে ব্যস্ত মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজও হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়ে। সাধারণত স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এসব অপকর্ম সংঘটিত হয় বলে হয়রানির ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খোলার সাহস পায় না। অন্যদিকে সরকার বালুমহালগুলো ইজারা দিতে না পারায় বালুদস্যুরা বিনারাজস্বে বালু উত্তোলন করছে। এতে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার দৈনিক সকালের খবর-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের বাঙালি নদী থেকে অবৈধভাবে ও অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর ফলে এ নদীর ওপর ধুনট উপজেলার চারটি সেতু হুমকির মুখে পড়েছে। শুধু সেতু নয়, শহর রক্ষা বাঁধসহ আশপাশের স্থাপনাও হুমকিতে রয়েছে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, এই অন্যায় কাজের মহোত্সব চলছে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখের সামনেই। স্থানীয় সাধারণ লোকজন ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পায় না, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দেখেও না দেখার ভান করে; তাহলে বিড়ালের গলায় ঘণ্টাটা পরাবে কে? কিছু লোভী-দুষ্কৃৃতীর স্বার্থের বলি হবে সাধারণ মানুষ-এটাও মেনে নেওয়া যায় না।
অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে সেতুধস বা নদীর উপকূলে ভাঙনসহ অনাকাঙ্ক্ষিত বন্যা তথা ফসলের হানি রোধ করতে অবাধে বালু উত্তোলনের মতো বিষয়গুলোকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। অবাধে বালু উত্তোলনকারীদের অপতত্পরতা রোধে স্থানীয় অধিবাসীদের সহযোগিতায় সমন্বিত উদ্যোগ নিলে দ্রুত ইতিবাচক ফল মিলতে পারে। ক্ষমতাসীন দলের কারও নাম ভাঙিয়ে কেউ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নদীভাঙন এবং বেড়িবাঁধ ভাঙনের কবল থেকে দরিদ্র মানুষকে রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিলে তা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পরিবেশ ও প্রতিবেশের সুরক্ষার জন্যও অবাধে বালু উত্তোলন প্রতিরোধ করা দরকার।
আলোচ্য খবরের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আশা করতে চাই, অবৈধ বালুমহাল থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের বিষয়ে দ্রুত নজর দেওয়া হবে। বিপজ্জনক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন রহিত করতে হবে। বালুদস্যুদের বিরুদ্ধে যথাযোগ্য আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নদী থেকে বালু উত্তোলন ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে, আমরা সেই প্রত্যাশাই করি।