মঙ্গলবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, সকাল ০৭:৪৮

রৌমারীতে পুলিশের ধাওয়ায় ১ জনের মৃত্যু, ৫জুয়াড়িকে ছেড়ে দিল পুলিশ

Published : 2017-09-12 20:12:00, Count : 1159

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : পুলিশের ধাওয়া খেয়ে আব্দুর সবুর (৪৪) নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় রৌমারী পুলিশ ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভোররাতে আটককৃত ৫ জুয়াড়িকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে পরিবারকে ম্যানেজ করে পুলিশ। পরে মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় কর্ত্তিমারী কেন্দ্রীয় কবর স্থানে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করা হয়। যাদুর চর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাখওয়াত হোসেন সবুজ ও রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মজিবর রহমান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আব্দুর সবুরের ভাই নুর হোসেন জানান, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের গোলাবাড়ি নামক এলাকার মাহবুবুর রহমান রিপনের বাড়িতে ১০/১২জনের একটি দল তাস খেলছিল।

এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রৌমারী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় ৫জনকে আটক করে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন, গোলাবাড়ি গ্রামের মৃত আইজুদ্দনের ছেলে মুঞ্জিল হোসেন (৪৮), ধনারচর আকন্দপাড়া  গ্রামের মৃত- কসব উদ্দিনের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম (৩৫), কাশিয়াবাড়ি গ্রামের আজিজল হক মন্ডলের ছেলে মোবারক হোসেন(৪৮), কোমরভাঙ্গি নয়াপাড়া গ্রামের ময়দান আলীর ছেলে আমজাদ হোসেন(৩৩) ও কর্ত্তিমারী বাজারের প্যারিস টেইলার্সের মালিক গোলাপ হোসেন(৪৫)।

অন্যদেরকে ধাওয়া করলে তারা দৌড়ে পালায়। এ সময় পালাতে গিয়ে আব্দুর সবুর বাড়িতে (ঘটনাস্থলের কাছাকাছি) গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পানি পানি বলে চিত্কার করে আকস্মিক ভাবে মৃত্যু হয় তার। মৃত সবুর গোলাবাড়ি গ্রামের ভেলু শেখের ছেলে। সে ১ ছেলে ও এক মেয়ের জনক। এ ঘটনায় পরিবারটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জুয়ারিদের ধাওয়া করে ৫জুয়াড়িকে আটক করে থানায় নেয় পুলিশ। এর কিছু সময়বাদে খবর আসে আব্দুর সবুর নামের এক জুয়াড়ি বাড়িতে গিয়ে মারা গেছেন। এরপরপরই স্থানীয় সাংসদ রুহুল আমিন পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলেন। এতে নড়েচড়ে বসে পুলিশ। দায় এড়াতে ও ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তড়িঘড়ি করে ভোর ৫টার দিকে ওই পাঁচ জুয়াড়িকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

কীভাবে থানা থেকে ছাড়া পেলেন এমন প্রশ্নের জবাবে, আমজাদ নামের এক জুয়াড়ি জানান, ‘একজন নেতার মধ্যস্থতায় ছাড়া পেয়েছি। আর ঘটনার বর্ননা দিতে গিয়ে আমজাদ বলেন,‘ আব্দুর সবুর ও তার ছোট ভাই নুরহোসেনসহ ১২জন মিলে ওই বাড়িতে তাস খেলছিলাম। প্রতিরাতে ওই বাড়িতে খেলা হলেও ওইদিন হঠাত্ বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। এ সময় পুলিশ ৫জনকে আটক করে। আব্দুর সবুরসহ অন্যরা পালিয়ে যান। পরে ভোরে থানা থেকে ছাড়া পাই।’

ঘটনাস্থল থেকে একশ গজ দূরেই রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানের বাড়ি। তিনি অকপটে বলেন, পুলিশি অভিযানের পর সবুরের মৃত্যু হওয়ায় এলাকাবাসির মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে। অবশ্য পুলিশ পরে আটককৃত ৫ জুয়াড়িকে ছেড়ে দেয়।

রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমাদের অভিযান চালানোর আগেই ঐ ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এছাড়া কোন জুয়াড়িকে পুলিশ আটক করেনি। বরং পৃথক কয়েকটি অভিযান চালিয়ে রৌমারী থানা পুলিশ ৮০কেজি ৫০০গ্রাম গাজা ও ১১টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ ৪ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া একজন ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনার বাইরে যা শুনছেন তা গুজব। আর মৃত্যুর ঘটনায় একটি ইউডি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

রুহুল আমিন এমপি বলেন, পুলিশের অভিযানে মৃত্যু ও ৫ জুয়াড়িকে আটকের ঘটনা জানার পর সংশ্লিষ্ট সকলকে ফোন করেছি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।