শুক্রবার ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮, ভোর ০৬:০২

মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা: শিক্ষকদের দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে

Published : 2017-09-11 22:17:00
শিক্ষার প্রসারে প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই করছে সরকার। শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনই শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাপঞ্জিও কার্যকর হচ্ছে। রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ হয়েছে। প্রতি বছর শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে, কমছে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। পাসের হারও সন্তোষজনক। তারপরও প্রাথমিক শিক্ষার মানের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন নিয়ে এখনও প্রশ্ন আছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ২০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী সমাপনী পরীক্ষার আগেই ঝরে পড়ছে। ঝরে পড়ার এই হার উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে গত সোমবার ইউএসএআইডি ও সেভ দ্য চিলড্রেন কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত ‘রিডিং এনহ্যান্সমেন্ট ফর অ্যাডভান্সিং ডেভেলপমেন্ট (রিড)’ প্রকল্পের পঠন-শিখন সামগ্রীর এক প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার ভিত মজবুত হলে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কমবে। আমরাও তার সঙ্গে একমত। তবে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত মজবুত করার অংশ হিসেবে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানকে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনা, দৈনিক পাঠ পরিকল্পনা ও পাঠ উপকরণ নিয়ে পঠন প্রক্রিয়াকে কার্যকর ও আকর্ষণীয় করে তোলা শিক্ষকদের দায়িত্ব। এক্ষেত্রে মানসম্পন্ন শিক্ষকের অভাব তো আছেই, আছে শিক্ষক স্বল্পতাও। অবকাঠামোগত সমস্যাও আছে। তাই বলে শিক্ষার মানের বিপরীতে এসব সমস্যাকে দাঁড় করিয়ে দেওয়া যুক্তিযুক্ত হবে না। আবার এসব সমস্যার সমাধানে কালক্ষেপণও কাম্য নয়। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সংস্কার করতে হবে। তবে শিক্ষার মান উন্নয়নে কেবল শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষকদের দক্ষতা অর্জন বেশি প্রয়োজন। বিগত দিনে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অদক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা যথাযথ জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই শিক্ষকতা পেশায় মেধাবীদের আগ্রহী করে তুলতে হবে। সেজন্য শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান-মর্যাদার পাশাপাশি বেতন-ভাতা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
কতিপয় শিক্ষক শ্রেণিকক্ষের শিক্ষায় আন্তরিক না হয়ে তারা বাসা বা কোচিং সেন্টারে প্রাইভেট পড়ানোর নামে বাণিজ্য করছেন, এটাও অসত্য নয়। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত পাঠসেবা থেকে বঞ্চিত থাকছে। শিক্ষকদের পাঠদান কার্যক্রম সঠিকভাবে মনিটরিং করা হয় না বললেই চলে। বিষয়টি মানসম্মত শিক্ষার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রতিবন্ধক। কোচিং ও প্রাইভেট পড়ানোর বিরুদ্ধে নীতিমালা বা আইন থাকলেও তা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আমরা মনে করি, মাঠপর্যায়ে মনিটরিং ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় প্রাথমিকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসছে না। তাই এসব বিষয় খতিয়ে দেখা উচিত।
আগামী দিনের জন্য সত্, দক্ষ, দেশপ্রেমিক ও উদার মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন অসাম্প্রদায়িক সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের দায়িত্ব নিতে হবে। এজন্য শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। তবে তারা দক্ষতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্বপালন করছেন কি না সেটা নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে। সরকার, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে, আমরা সেই প্রত্যাশাই করি।