সোমবার ২২ জানুয়ারি, ২০১৮, সন্ধ্যা ০৬:৩৭

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম

Published : 2017-09-11 22:14:00
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনায়। তিনি মূলত উপন্যাস ও ছোটগল্প লিখে খ্যাতি অর্জন করেন। নিভৃতচারী এই কথাশিল্পীর রচনায় পল্লীর জীবন ও নিসর্গ রূপায়ণে বাংলার আবহমানকালের চালচিত্র ও মানবজীবনের অন্তর্লীন সত্তা প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর রচনায় প্রকৃতি কেবল প্রকৃতিরূপেই আবির্ভূত হয়নি, বরং প্রকৃতি ও মানবজীবন একীভূত হয়ে অভিনব রসমূর্তি ধারণ করেছে; মানুষ যে প্রকৃতিরই সন্তান এ সত্য প্রতিফলিত হয়েছে; প্রকৃতির লতাপাতা, ঘাস, পোকামাকড় সবকিছুই গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে। প্রকৃতির অনুপুঙ্খ বর্ণনার মধ্য দিয়ে এ কথাসাহিত্যিক গভীর জীবনদৃষ্টিকেও তুলে ধরেছেন। শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু হলেও লেখালেখিতেই বিভূতিভূষণ স্থায়িত্ব অর্জন করেন। প্রবাসী পত্রিকায় গল্প প্রকাশের মধ্য দিয়ে তাঁর সাহিত্যিক জীবনের সূত্রপাত ঘটে। ১৯২৫ সালে তিনি পথের পাঁচালী রচনা শুরু করেন। এটিই তাঁর প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ রচনা। উপন্যাসটি ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিত্ রায় তাঁরপথের পাঁচালী উপন্যাসের কাহিনিকে চলচ্চিত্রে রূপদান করেছেন।
১৯৫১ সালে ইছামতী উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার রবীন্দ্র পুরস্কার (মরণোত্তর) লাভ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য ক’টি গ্রন্থ হল : উপন্যাস-অপরাজিত, দৃষ্টিপ্রদীপ, আরণ্যক, বিপিনের সংসার, অনুবর্তন, অথৈজল, ইছামতী, দম্পতি; গল্প : মেঘমল্লার, মৌরীফুল, কিন্নর দল, সুলোচনা, চাঁদের পাহাড়, সুন্দরবনের সাত বত্সর; ভ্রমণকাহিনি ও দিনলিপি-অভিযাত্রিক, স্মৃতির রেখা, হে অরণ্য কথা কও। ১৯৫০ সালের ১ নভেম্বর বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণ ঘটে।