মঙ্গলবার ১৬ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ১১:৪৮

ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা: নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত হোক

Published : 2017-09-10 21:34:00
অনেক পরিবারের ঈদ উত্সবের আনন্দ এবারও কেড়ে নিয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা। ঈদুল আজহার আগে ও পরে গত ১২ দিনে ঈদযাত্রায় দেশে শুধু সড়ক দুর্ঘটনায় শতাধিক প্রাণ ঝরেছে। আহতের সংখ্যা তিনশ’ ছাড়িয়েছে। এ বছর রোজার ঈদেও ঘরে পৌঁছাতে এবং কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে তিনশতাধিক মানুষকে প্রাণ হারাতে হয়।
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে, অনেক পরিবার পথে বসছে। নিকট অতীতে আমরা দেখেছি দেশের অনেক প্রতিভাবান প্রাণ হারিয়েছেন সড়ক দুর্ঘটনায়। অনেক পরিবারের আশার আলো নিভে গেছে যানবাহনের চাকায়। পরিস্থিতি এমন যে, সড়কপথে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোটাই যেন ভাগ্যের ব্যাপার। সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হচ্ছে প্রশিক্ষিত চালকের অভাব। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া চালকের আসনে বসে যাওয়ার ঘটনা তো নৈমিত্তিক।
চালকদের অদক্ষতা ও নিয়ম না মেনে গাড়ি চালানোর প্রবণতার জন্য দুর্ঘটনা ঘটছে। চালকদের একটা বড় অংশের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নেই। কোনো মতে একটা ড্রাইভিং লাইসেন্স জোগাড় করে রাস্তায় নেমে পড়ে। ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করে, এমন সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিয়ে অভিযোগ বহু পুরনো। এছাড়া অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে গাড়ির ফিটনেস ও ভুয়া লাইসেন্স দেওয়ার মতো বিষয়ও রয়েছে। সড়কপথে পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টিও সরকারের অজানা নয়। এছাড়া বেহাল সড়ক, রাস্তা তৈরিতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সঠিক পরিকল্পনার অভাব তো রয়েছেই। যার কারণে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকার বারবার নানা সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিলেও কোনোভাবেই তা প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। এবারও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। বিষয়টি উদ্বেগের। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয় যে রোধ করা যাবে না। আমরা মনে করি, সরকারি সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি অনেকাংশেই হ্রাস করা সম্ভব।
সরকার এককভাবে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে পারবে না। জনগণকেও সচেতন হতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার জনবলের অভাবের কথা জানা যায়। তবে জনবল বাড়ালেই চলবে না, তারা সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছে কি না তা তদারকি করতে হবে। বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কেউ যেন চালকের আসনে বসতে না পারে তার নিশ্চয়তা বিধান করা জরুরি। ফিটনেসবিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগে কড়াকড়ি করতে হবে। নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচলের জন্য রাস্তাগুলোর আধুনিকায়নও অনিবার্য। সড়কযাত্রা নিরাপদ করতে যা যা করা দরকার তার সবই করতে হবে।
নিরাপদ সড়ক আমাদের সবার প্রত্যাশা। এক্ষেত্রে সরকারি সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জবাবদিহিতা, মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত জনবলের সততা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা হলে এ প্রত্যাশার অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।