বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর, ২০১৭, রাত ১০:৪৬

মোদি না থাকলেও রোহিঙ্গাদের পাশে মমতা

Published : 2017-09-10 12:18:00, Updated : 2017-09-10 16:17:39

অনলাইন ডেস্ক : মায়ানমার থেকে উৎখাত হওয়া যে সব রোহিঙ্গা মুসলিম ভারতে ঢুকেছেন, তাঁদের 'পুশব্যাক' করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদি সরকার। সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোকে এই নীতি মেনে চলতে বলেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু সে নির্দেশ মানতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সিদ্ধান্ত, উদ্বাস্তু রোহিঙ্গারা এ রাজ্যে থাকতে চাইলে মানবিকতার খাতিরেই তাদের থাকতে দেওয়া হবে। কোনো অবস্থাতেই জোর করে ফেরত পাঠানো হবে না। রাজ্য প্রশাসনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, "রোহিঙ্গারা মুসলিম বলেই কেন্দ্র এমন অবস্থান নিচ্ছে। কিন্তু কেন্দ্র অমানবিক হলেও আমরা তা হতে পারব না।"

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের সংগে সহিংসতার কারণে গত কয়েক বছর ধরে কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা সে দেশ ছেড়ে নৌকা করে বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিচ্ছেন। গত ২৫ অাগস্ট থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় সে সংখ্যাটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতে ইতিমধ্যেই আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা। এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার জম্মু লাগোয়া এলাকায় রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি মিয়ানমারে গিয়ে এঁদের সকলকে 'পুশব্যাক' করার নীতি ঘোষণা করে এসেছেন।

পশ্চিমবঙ্গে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যার তেমন বেশি নয়। বনগাঁ-বসিরহাট সীমান্ত এবং উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু এলাকা দিয়ে কিছু রোহিঙ্গা পশ্চিমবঙ্গে ঢুকেছে। ধরা পড়ার পরে তাঁদের অনেকেই এখন জেলে। উত্তরবঙ্গেও বেশ কিছু রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এদের কাউকেই 'পুশব্যাক' করা হবে না বলে সরকারি স্তরে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

যদিও কেন্দ্রের চাপে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন হোমে বন্দি থাকা ২৩ জন মহিলা ও শিশুর পরিচয়পত্র বিতরণ বন্ধ রাখতে হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইরোহিঙ্গাদের জন্য বিশেষ পরিচয়পত্র দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের হোমে বন্দিদেরও তেমন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই পরিচয়পত্র বিতরণ বন্ধ হয়ে গেছে।

ভারতে ১ লক্ষ ২০ হাজার তিব্বতি, ৬০ হাজার পাখতুন, ১০ হাজার সিংহলি শরণার্থী রয়েছেন। এছাড়া ৩০ লক্ষ থেকে ২ কোটি বাংলাদেশিও ঢুকে পড়েছেন বলে বিভিন্ন সংস্থার দাবি। কেন্দ্র কখনো এঁদের নিয়ে বিশেষ অবস্থান নেয়নি। অথচ, মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপরে অবর্ণনীয় অত্যাচার ও নির্বিচার হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে বহু দেশ তাঁদের জন্য দরজা খুলে দিলেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বলেছেন, "সব রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুই অনুপ্রবেশকারী। তাদের সকলকে ফেরত পাঠানো হবে।" প্রতিমন্ত্রীর এ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। এর প্রতিক্রিয়ায় প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, "গোটা বিশ্বে ভারতেই সব চেয়ে বেশি উদ্বাস্তুর বাস। অতএব উদ্বাস্তু সমস্যা ও তা সামলানোর বিষয়টি নিয়ে আমাদের জ্ঞান দেওয়ার দরকার নেই।"

এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের 'পুশব্যাক' করা এবং না করার সিদ্ধান্ত, দুয়ের পিছনেই রাজনীতির ছাপ দেখছেন অনেকে। তাদের মতে, হিন্দুত্বের রাজনীতি তুলে ধরতেই 'পুশব্যাক' করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার। অপরদিকে বাঙালি মুসলিমদের 'পুশব্যাক' না করে লাভের অঙ্ক কষছে তৃণমূল।

এদিকে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু সমস্যা নিয়ে শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মুয়াজ্জেম আলি নয়াদিল্লিতে বৈঠক করেন। বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা সমস্যা মানবিক ভাবে নিরসনের জন্য মায়ানমারের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করছে ঢাকা। সূত্রের খবর, শুধু ভারত নয়, এগিয়ে আসার জন্য সমস্ত রাষ্ট্রের কাছেই এই আবেদন জানানো হচ্ছে। সূত্র: আনন্দবাজার