বুধবার ২৪ জানুয়ারি, ২০১৮, দুপুর ০১:০৯

বন্ধ হওয়া অ্যাকাউন্টে ৮০ কোটি টাকা!

Published : 2017-09-09 12:26:00

অনলাইন ডেস্ক : পেশায় ইন্টেরিয়র ডেকরেটর মহিমবাবু একটি বেসরকারি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। কিন্তু পরিচয়পত্রের ত্রুটি থাকায় অ্যাকাউন্টটি সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেয় ব্যাংক। দিন কয়েক আগে মহিমবাবু জানতে পারেন কয়েক দফায় প্রায় ৮০ কোটি টাকা জমা পড়েছে 'বন্ধ হয়ে যাওয়া' তার ওই অ্যাকাউন্টে। কে রেখেছে সেই টাকা তার কোনো হদিস নেই।

ব্যাংকের পক্ষ থেকেও সাহায্য মেলেনি বলে অভিযোগ। বাধ্য হয়ে হরিদেবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। প্রাথমিক ভাবে গোয়েন্দাদের সন্দেহ, টাকা পাচারের জন্য কোনও অপরাধী চক্র ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য হাতিয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।

মহিমবাবু জানান, সম্প্রতি তিনি অ্যাকাউন্ট খুলতে চেয়ে একটি বেসরকারি ব্যাংকে আবেদন করেন। ২৬ অাগস্ট সখেরবাজার শাখা থেকে এক ব্যাংককর্মী তাঁর বাড়িতে এসে নথিপত্র, ছবি, সই নিয়ে যান। আবেদনকারী হিসেবে নতুন অ্যাকাউন্টে জমা করার জন্য তাঁর একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ৩৫ হাজার টাকার চেকও জমা দেন মহিমবাবু। ২৯ অাগস্ট নতুন অ্যাকাউন্টে সেই টাকা জমাও পড়ে। তিনি একটি এটিএম কার্ড ও 'পিন' পান।

তিনি জানান, কয়েক দিন পরে ওই ব্যাংক থেকেই ফোন করে জানানো হয়, নথিপত্রে কিছু ত্রুটি রয়েছে। তাই ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী অ্যাকাউন্ট সাময়িক ভাবে বন্ধ করা হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে লিখিত ভাবে কিছু জানানো হয়নি। চেকটি যে অ্যাকাউন্ট থেকে কাটা হয়েছিল, সেখানেই চেকে উল্লেখ করা টাকার অঙ্ক ফিরিয়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়। বুধবার ৩৫ হাজার টাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ফেরত পাঠানো হয়। প্রশ্ন উঠেছে, অ্যাকাউন্ট না খোলা গেলে চেক কেন ভাঙানো হবে? সে ক্ষেত্রে চেক গ্রাহকের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা।

মহিমবাবুর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর মোবাইলে একটি মেসেজ ঢোকে। তাতে বলা হয় বেসরকারি ব্যাংকে খোলা নতুন অ্যাকাউন্টে কিছু টাকা জমা পড়েছে। কিছু ক্ষণের মধ্যেই একের পর এক মেসেজ ঢুকতে থাকে। প্রায় ৪০০টি মেসেজ ঢোকে। "সব মিলিয়ে জমা পড়া টাকার পরিমাণ ৮০ কোটি!" জানান মহিমবাবু।

মহিমবাবু জানান বৃহস্পতিবার সকালে মহিমবাবু সখেরবাজারের ওই বেসরকারি ব্যাংকের শাখায় গিয়ে হাজির হন। কিন্তু দুপুর ২ টা পর্যন্ত বসিয়ে রাখলেও কেউ তাঁর কথা শোনার জন্য ছিলেন না বলে অভিযোগ। পরে বিষয়টি শুনে এক ব্যাংককর্মী তাঁর এটিএম কার্ড এবং পিন নষ্ট করে দেন। এর পরেই হরিদেবপুর থানায় অভিযোগ জানান মহিমবাবু।

ব্যাংক-জালিয়াতি দমনে বিশেষজ্ঞ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, কালো টাকা পাচারের কৌশল হিসেবে এই ধরনের কায়দা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে মহিমবাবুর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং সই দুষ্কৃতীদের কাছে পাচার হয়ে গিয়ে থাকতে পারে। এই ঘটনায় ব্যাংককর্মীদের একাংশ জড়িত থাকতে পারে বলেও সন্দেহ। যদিও শুক্রবার ওই বেসরকারি ব্যাংকের সখেরবাজার শাখায় যোগাযোগ করা হলে বলা হয়, প্রযুক্তিগত ত্রুটির জন্যই এমন ঘটনা ঘটেছে। ব্যাংকের হয়ে যে সংস্থা জনসংযোগ করে, তারা ইমেল মারফত জানিয়েছে, গ্রাহকের তথ্য নিরাপদ রয়েছে। সূত্র: আনন্দবাজার