শুক্রবার ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮, ভোর ০৫:৫৬

শিশু প্রোগ্রামিংয়ের জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণ

Published : 2017-09-06 22:12:00
নিজস্ব প্রতিবেদক: শিশুদের প্রোগ্রামিং শেখানোর জন্য বেসিস আয়োজন করেছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা। বেসিস তার অঙ্গসংগঠন বেসিস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের (বিআইটিএম) সহায়তায় সম্প্রতি রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ বিআইটিএমের ৩০২ নম্বর ল্যাবে শুধু স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ‘স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং পরিচিতি’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
এতে সভাপতির বক্তব্যে বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশের শিশুরাই হবে প্রোগ্রামার। দুনিয়া জুড়ে রয়েছে প্রোগ্রামারদের বিপুল চাহিদা। পৃথিবীর সব উন্নত দেশ প্রোগ্রামার খুঁজে বেড়ায়। বিশ্বে প্রোগ্রামাররা শুধু চাহিদার শীর্ষে নয়, তারাই পায় সর্বোচ্চ সম্মানী ও সম্মান। ডিজিটাল দুনিয়ায় সেরা পেশাটির নাম প্রোগ্রামার। বাংলাদেশেও প্রোগ্রামারদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু দেশে সফটওয়্যারের কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোগ্রামার পাওয়া যায় না। বাংলাদেশে কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়লেও তুলনামূলকভাবে বাড়েনি প্রোগ্রামারের সংখ্যা। বরং কম্পিউটার বিজ্ঞান যারা পড়ে তাদের মাঝেও রয়েছে প্রোগ্রামিং-ভীতি। তিনি বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুসারে কম্পিউটার বিজ্ঞানে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ৫৮ জন কয়েক মাসের মধ্যেই এই বিষয় পড়া বাদ দিয়ে দেয়। তাদের কাছে বিষয়টি জটিল মনে হয়। আমরা মনে করি, এই অবস্থার পরিবর্তন করার জন্য শুধু স্নাতক বা কলেজ স্তরে প্রোগ্রামিং শেখানোর উদ্যোগ নিলে হবে না। প্রোগ্রামার তৈরির জন্য শৈশব থেকেই শিশুদের প্রোগ্রামিং সম্পর্কে ধারণা দেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য তাদের উপযোগী প্রোগ্রামিং শিক্ষা দিতে হবে, যার সহজতম উপায় হল স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং শেখানো। স্ক্র্যাচ এমন একটি প্রোগ্রামিং ভাষা, যা দিয়ে কোনো কোড লিখতে হয় না এবং কেউ এটিকে খেলা হিসেবেই নিতে পারে।
দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিংয়ের সঙ্গে পরিচিত করা এবং তারা যাতে তাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে এই জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে পারেন সেই ব্যবস্থা করা। প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
এই প্রশিক্ষণের প্রধান প্রশিক্ষক ছিলেন বিআইটিএমের প্রশিক্ষক সিরাজুল মামুন। সহযোগী হিসেবে ছিলেন মেহনাজ শারমিন মোহনা ও ফৌজিয়া আকতার নিহা। প্রথম ব্যাচে বাংলাদেশ ডিজিটাল স্কুল সোসাইটির ৩০ জন শিক্ষক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। আগামীতে আরও শিক্ষকের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন বলে সোসাইটির প্রধান ইয়াহিয়া খান রিজন জানান।