শুক্রবার ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮, ভোর ০৬:০২

খাদ্যপণ্য আমদানিতে ঋণপত্র খোলায় রেকর্ড

Published : 2017-09-06 19:39:00
অনলাইন ডেস্ক: চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতে বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলা ও নিষ্পত্তি উভয়ই বেড়েছে উল্লেখযোগ্যহারে। এ সময় আগের অর্থবছরের একই মাসের চেয়ে এলসি খোলা বেড়েছে ৫২ দশমিক ০৩ শতাংশ। আর এলসি নিষ্পত্তি বেড়েছে ৪৪ দশমিক ২৮ শতাংশ। এ সময় খাদ্যপণ্য, মূলধনী যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল ও জ্বালানি তেলের আমদানিতে এলসি খোলা এবং নিষ্পত্তি বেড়েছে। তবে রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে খাদ্যপণ্যের এলসি, যার হার ২০০ শতাংশেরও বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, দেশে বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় খাদ্য সঙ্কট এড়াতে সরকার চাল আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়ায় বেসরকারিভাবেও এই পণ্যটির আমদানি বেড়েছে। এছাড়া কোরবানির ঈদকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট আরও কিছু খাদ্যপণ্যের আমদানি বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে এলসি খোলা হয়েছে ৪৭০ কোটি ৯৬ লাখ মার্কিন ডলার; যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩০৯ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। অন্যদিকে, এ সময় বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে ৪০৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার; যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৮০ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। এছাড়া ২০১৬-১৭ অর্থবছরের পুরো সময়ে সার্বিক এলসি খোলা এবং নিষ্পত্তি বেড়েছিল যথাক্রমে ১১ দশমিক ০৫ ও ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
এ সময় খাদ্যপণ্য ও মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানিতে ঋণপত্র খোলার হার বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাইতে খাদ্যপণ্যের মধ্যে চাল ও গমের আমদানি ঋণপত্র খোলা হয়েছে ৩৩ কোটি ৪২ লাখ ডলার; যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ১০ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। সে হিসাবে খাদ্যপণ্য আমদানিতে ঋণপত্র খোলা বেড়েছে রেকর্ড ২০৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্য আমদানিতে ঋণপত্র নিষ্পত্তি বেড়েছে ৭২ দশমিক ৯০ শতাংশ। এ সময় খাদ্যপণ্যের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ডলার; যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৭ কোটি ৪৪ লাখ ডলার। এছাড়া ২০১৬-১৭ অর্থবছরের পুরো সময়ে এই পণ্যগুলোর এলসি খোলা এবং নিষ্পত্তি বেড়েছিল যথাক্রমে ৩৫ দশমিক ৯৯ ও ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

এ সময় মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে ঋণপত্র খোলা হয়েছে ৪৪ কোটি ৩৯ লাখ ডলার; যা আগের অর্থবছরের প্রথম মাসে ছিল ২৬ কোটি ২৯ লাখ ডলার। সে হিসাবে প্রথম মাসে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে ঋণপত্র খোলা বেড়েছে ৬৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আর এ সময় ৪৮ কোটি ৮৬ লাখ ডলারের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি নিষ্পত্তি হয়েছে; যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৪ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। এ হিসাবে মূলধনী যন্ত্রপাতির নিষ্পত্তি বেড়েছে ৯৬ দশমিক ৪১ শতাংশ। এছাড়া ২০১৬-১৭ অর্থবছরের পুরো সময়ে এই পণ্যগুলোর এলসি খোলা এবং নিষ্পত্তি বেড়েছিল যথাক্রমে ৩৫ দশমিক ৯৯ ও ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, এ সময় পেট্রোলিয়াম তথা জ্বালানি তেল আমদানির ঋণপত্র খোলা হয়েছে ৩০ কোটি ৫১ লাখ ডলার; যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৫৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি। গেল অর্থবছরের একই সময়ে এই পণ্যটির এলসি খোলা হয়েছিল ১৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের। এ সময় পেট্রোলিয়াম পণ্যের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ১৩ কোটি ১৭ লাখ ডলার; যা গত অর্থবছরের একই মাসের চেয়ে ১৫ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পণ্যটির এলসি নিষ্পত্তি হয়েছিল ১৩ কোটি ১৭ ডলার। এছাড়া গত অর্থবছরের পুরো সময়ে এই পণ্যটির এলসি খোলা এবং নিষ্পত্তি বেড়েছিল যথাক্রমে ১৭ দশমিক ০৮ ও ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে শিল্পের কাঁচামালের আমদানি ঋণপত্র খোলা এবং নিষ্পত্তি বেড়েছে যথাক্রমে ৫২ দশমিক ৬৮ ও ২৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এ সময় শিল্পের কাঁচামাল আমদানি ঋণপত্র খোলা হয়েছে ১৪২ কোটি ৩৮ লাখ ডলার; যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৯৩ কোটি ২৫ লাখ ডলার। আর এ সময় মূলধনী যন্ত্রপাতির এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ১৫০ কোটি ৯৬ লাখ ডলার; যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১১৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এছাড়া গত অর্থবছরের পুরো সময়ে এই পণ্যটির এলসি খোলা এবং নিষ্পত্তি বেড়েছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৩৩ ও ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ। এদিকে, চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে অন্যান্য পণ্যের এলসি খোলা এবং নিষ্পত্তি বেড়েছে যথাক্রমে ৩৭ দশমিক ৮৬ ও ৫২ দশমিক ২৭ শতাংশ। গত অর্থবছরের পুরো সময়ে অন্যান্য পণ্যের এলসি খোলা এবং নিষ্পত্তির হার ছিল যথাক্রমে ১৪ দশমিক ২২ ও ১২ দশমিক ৭৭ শতাংশ।