সোমবার ২২ জানুয়ারি, ২০১৮, বিকাল ০৪:৩৪

আবু জাফর শামসুদ্দীনের প্রয়াণ

Published : 2017-08-23 21:33:00
সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আবু জাফর শামসুদ্দীনের জন্ম ১৯১১ সালে, গাজীপুর জেলার দক্ষিণবাগ গ্রামে। ১৯২৪-এ স্থানীয় একডালা মাদ্রাসা থেকে জুনিয়র মাদ্রাসা পরীক্ষায় ও ১৯২৯-এ ঢাকা সরকারি মাদ্রাসা থেকে হাই মাদ্রাসা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কিছুদিন ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজে অধ্যয়ন করেন। পরে কলকাতায় সাংবাদিকতার চাকরিতে যোগদান করে দৈনিক সোলতান-এর সহসম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৯৩১-এ সরকারের সেচ বিভাগে কেরানির চাকরি নেন। ১৯৪২-এ এই চাকরি পরিত্যাগ করে কটকে নির্মীয়মাণ বিমানঘাঁটি তদারকি অফিসের হেড ক্লার্ক পদে যোগদান করেন।
কয়েক মাস পর পুনরায় সাংবাদিকতার চাকরিতে প্রত্যাবর্তন করে দৈনিক আজাদ-এর সাবএডিটর পদে নিযুক্ত হন। ১৯৪৮-এর অক্টোবরে পত্রিকাটি কলকাতা থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত হলে তিনি সহকারী সম্পাদক পদে উন্নীত হন। ১৯৫০-এ আজাদ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হলে তত্কর্তৃক পুস্তক ব্যবসায় সংস্থা কিতাবিস্তান প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫০-১৯৫১-তে সাপ্তাহিক ইত্তেফাক-এর সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫২-এর ফেব্রুয়ারির ভাষা-আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯৫৭-এর ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত কাগমারী সাংস্কৃতিক সম্মেলনের সম্পাদক হন। ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির জন্মলগ্ন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৬১-তে বাংলা একাডেমির অনুবাদ বিভাগের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। ১৯৭২-এ চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
পরে দৈনিক পূর্বদেশ-এর সম্পাদকীয় বিভাগে যোগ দেন। পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দৈনিক সংবাদে চাকরি নিয়ে এই পত্রিকায় ‘অল্পদর্শী’ ছন্দনামে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ কলাম রচনা করেন। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ মন্ত্রিপরিষদের সভাপতি, বাংলা একাডেমির কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচিত সদস্য, বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, বাংলাদেশ আফ্রো-এশীয় লেখক ইউনিয়নের সহসভাপতি ও বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতির সভাপতি হন। ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বিশ্বাসী একজন প্রগতিশীল এই লেখক উপন্যাস, ছোটগল্প ও মননশীল প্রবন্ধ রচনা করে সুনাম অর্জন করেন। ১৯৮৮ সালের ২৪ আগস্ট আবু জাফর শামসুদ্দীনের প্রয়াণ ঘটে।