মঙ্গলবার ১৬ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ১১:৪৭

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম

Published : 2017-08-23 00:04:00
তারাশঙ্করের জন্ম ১৮৯৮ সালের ২৩ আগস্ট। কর্মজীবনে প্রথমে কিছুকাল কানপুরে চাকরি করেন। ১৯৫২-তে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হন। আট বছর বিধানসভার সদস্য ও ছয় বছর রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০-এ বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন। তাঁর উপন্যাসে সামন্ততন্ত্রের সঙ্গে ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্ব ছিল। সে দ্বন্দ্বে জমিদার শ্রেণির পরাভব ও শিল্পপতি-ব্যবসায়ী শ্রেণির বিজয়, যন্ত্রসভ্যতার সঙ্গে কৃষিসভ্যতার বিরোধ ছিল। সে বিরোধে প্রবলের কাছে গরিবের আত্মসমর্পণ, পরাধীন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, দাঙ্গা, দেশ বিভাগ, অর্থনৈতিক বৈষম্যের নির্লজ্জ বিস্তার, যুব সম্প্রদায়ের ক্রোধ, অস্থিরতা, বিদ্রোহ ছিল। সব মিলিয়ে গোটা রাঢ় অঞ্চলের গ্রামীণ জীবনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং তারই মাঝে গোটা মানুষের অভ্যুদয় নিপুণভাবে উপস্থাপিত হয়। চৈতালী ঘূর্ণি, ধাত্রীদেবতা, কালিন্দী, জলসাগর, কবি, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম, হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, আরোগ্য নিকেতন, পঞ্চপুণ্ডলী, রাধা তারাশঙ্করের প্রতিনিধিস্থানীয় উপন্যাস। মানবচরিত্রের নানান জটিলতা ও নিগূঢ় রহস্য তাঁর উপন্যাসে জীবন্তভাবে প্রকাশিত হয়। গল্পকার হিসেবেও তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন। বেদে, পটুয়া, মালাকার, লাঠিয়াল, চৌকিদার ও ডাক হরকরা প্রভৃতি সাধারণ মানুষের জীবনচিত্র তাঁর গল্পে দক্ষতার সঙ্গে অঙ্কিত হয়েছে। রসকলি, বেদেনী, ডাক হরকরা প্রভৃতি তাঁর বিখ্যাত ছোটগল্প। তারাশঙ্করের গল্পের সঙ্কলন তিন খণ্ডে সাহিত্য সংসদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়। তাঁর বহু গল্প ও উপন্যাস অবলম্বনে সার্থক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। দুই পুরুষ, কালিন্দী ও আরোগ্য নিকেতন এদিক থেকে উল্লেখযোগ্য। সাহিত্যকৃতির জন্য তিনি শরত্স্মৃতি পুরস্কার (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়), জগত্তারিণী স্মৃতিপদক (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়), রবীন্দ্র পুরস্কার, সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার এবং পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণ উপাধি লাভ করেন। ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান।