বৃহস্পতিবার ১৮ জানুয়ারি, ২০১৮, ভোর ০৬:১৮

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঈদে দুর্ভোগের আশঙ্কা

Published : 2017-08-16 23:56:00
গোয়ালন্দ সংবাদদাতা: ফেরি সঙ্কট, ঘাট সমস্যা ও নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে আগামী কোরবানির ঈদে পশুবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী যানবাহন পারাপার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন ঘাট সংশ্লিষ্টরা।
নৌরুটে চলাচলকারী ১৮টি ফেরির মধ্যে ৬টি বিকল হয়ে মেরামতে রয়েছে। ঈদের অতিরিক্ত যানবাহন পারাপার শুরু না হলেও ঘাট এলাকায় প্রতিদিনই মহাসড়কে সিরিয়ালে আটকা পড়ছে শত শত বিভিন্ন যানবাহন। এ অবস্থায় ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত যানবাহন আসতে শুরু করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বুধবার বিকেল ৪টা নাগাদ দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় অন্তত ৫ শতাধিক বিভিন্ন যানবাহন আটকে পড়ে।
সরেজমিন বুধবার দুপুরে দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায়, ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের বাংলাদেশ হ্যাচারিজ পর্যন্ত অন্তত সাড়ে তিন কিলোমিটারজুড়ে সিরিয়ালে আটকে আছে নদী পার হতে আসা বিভিন্ন যানবাহন। ফোরলেন সড়কের বাম পাশে পণ্যবাহী ট্রাকের ডান পাশ দিয়ে অন্তত দুই
কিলোমিটারজুড়ে যাত্রীবাহী পরিবহন নদী পার হতে সিরিয়ালে আটকে আছে। দৌলতদিয়ার চারটি ফেরিঘাটের মধ্যে তিনটি দিয়ে যানবাহনগুলো ফেরিতে ওঠা-নামা করছে। ৪নং ফেরিঘাটের পন্টুনের কব্জা ভেঙে যাওয়ায় তা বন্ধ রেখে মেরামত করা হচ্ছে। এর ফলে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ৪নং ঘাট দিয়ে যানবাহন ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। এ সময় মেরামত কাজ করা বিআইডব্লিউটিসির ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি মো. শহিদ জানান, এ ঘাটটির মেরামত কাজ শেষ করতে অন্তত দু’দিন সময় লাগবে।
বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া অফিস সূত্র জানায়, গত ঈদুল ফিতরের পর পর্যায়ক্রমে রো রো ফেরি (বড়) বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ও আমানত শাহ বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিকল হয়ে পড়ে। ফেরি দুটি মেরামতের জন্য নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়। এরপর সপ্তাহখানেক আগে রো রো ফেরি (বড়) বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান নামের দুটি ফেরি যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিকল হয়ে পড়ে। এই ফেরি দুটি পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা মধুমতীতে সংস্কার কাজ চলছে। এ অবস্থায় বুধবার ভোরে কেটাইপ ফেরি কুমারী ও ইউটিলিটি ফেরি মাধবীলতা বিকল হয়ে পড়ে। এই ফেরি দুটিও মেরামতের জন্য পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা মধুমতীতে পাঠানো হয়। এভাবে ফেরি বহরের ১৮টি ফেরির মধ্যে একে একে ৬টি ফেরি বিকল হয়ে আছে। এ পরিস্থিতিতে মাত্র ১২টি ফেরি দিয়ে রুটে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এ ছাড়া পদ্মা-যমুনায় অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে স্রোতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। প্রতিটি ফেরির একেকটি ট্রিপ দিতে দ্বিগুণের বেশি সময় লাগছে। এতে করে ঘাট এলাকায় আটকা পড়ছে শত শত যানবাহন। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী কোরবানির ঈদে যানবাহন পারাপারে অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছে ঘাট সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পশুবাহী ট্রাকগুলো দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে নদী পারের জন্য দৌলতদিয়া ঘাটে আসতে শুরু করেছে। দ্রুতই এসব পশুবাহী ট্রাকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ঘাটে যানবাহনের চাপ আরও বেড়ে যাবে। ঈদের সময় স্বাভাবিক যানবাহনের সঙ্গে যুক্ত হবে হাজার হাজার পশুবাহী ট্রাক এবং যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার। বর্তমানে এ রুট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার যানবাহন নদী পারাপার হলেও ঈদের আগে ও পরে এ সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। ফেরির সংখ্যা না বাড়ালে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হবে এ রুট দিয়ে যাতায়াতকারীদের।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া অফিসের ম্যানেজার (বাণিজ্য) সফিকুল ইসলাম ফেরি সঙ্কটের কথা স্বীকার করে জানান, নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে ঘাট এলাকায় কিছু যানবাহনের আটকা পড়ার ঘটনা ঘটছে। তবে আসন্ন ঈদে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামাল দিতে মেরামতে থাকা ফেরিগুলো দ্রুতই ফেরি বহরে যুক্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।