মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ০৪:১৩

৩৬ মণ ওজনের ‘বিট্টু মহারাজ’

Published : 2017-08-16 23:54:00
আলী আকবর টুটুল, বাগেরহাট: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার অজপাড়াগাঁ শৈলখালীতে একটি খামারে অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের বকনার ওজন এখন ৩৬ মণ। কালো রঙের সাড়ে ১০ ফুট লম্বা ও সাড়ে ৫ ফুট উঁচু ২ বছর ১১ মাস বয়সী ষাঁড়ের আদরের নাম ‘বিট্টু মহারাজ’। বিট্টুকে নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে অপার কৌতূহল। তার লালন-পালনকারী খামারি অনুজ কুমার হালদার আনন্দে উদ্ভাসিত। তিনি এবারের কোরবানির ঈদে বিট্টুকে ২৪-২৫ লাখ টাকারও বেশি দামে বিক্রি করার স্বপ্ন দেখছেন।  
অনুজ কুমার হালদার বলেন, পাঁচ বছর আগে একটি অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান গাভী কিনে নিজ বাড়িতে লালন-পালন শুরু করি। গাভীটি দুই বছর পর একটি বকনার জন্ম দেয়। তখন ওই বকনার নাম রাখি বিট্টু মাহারাজ। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ নিয়ে অনেক আদর-যত্নে লালন-পালন করে বড় করি। তবে মোটাতাজাকরণ কোনো ওষুধ দেওয়া হয়নি বিট্টুর খাবারের তালিকায়।
অনুজ আরও জানান, বিট্টুকে ভাত, কলা, পেয়ারাসহ বিভিন্ন দেশি খাবার খাওয়ানো হয় নিয়মিত। সঙ্গে থাকে পশুর প্রয়োজনীয় সব খাবার। বিট্টুকে ভালো রাখতে খামারে চারটি ফ্যান লাগানো হয়।
অনুজ দাবি করেন, খুলনা বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বড় ষাঁড় তার ‘বিট্টু মহারাজ’। কোরবানি যতই এগিয়ে আসছে বিট্টুকে দেখতে উত্সুক মানুষের ভিড় ততই বাড়ছে। প্রতিনিয়ত বিট্টুকে দেখতে শৈলখালী গ্রামে অনুজ হালদারের বাড়িতে ভিড় করছে অসংখ্য মানুষ।
৩৬ মণ ওজনের ষাঁড়ের মালিক অনুজ হালদার বলেন, বিট্টু মহারাজ আমার খুব আদরের। তাকে আমি কখনও পশু ভাবি না। তাকে আমার পরিবারের সদস্য মনে করি। স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে তিনজনের সংসার
আমার। পরিবারের সবাই বিট্টুকে খুবই ভালোবাসি। সবাই তার খেয়াল রাখি। তাকে বিক্রি করার পর আমাদের সবার খুব খারাপ লাগবে।
দামের ব্যাপারে অনুজ বলেন, যে মায়া মমতা দিয়ে বিট্টুকে আমি পালন করেছি তার দাম কেউ দিতে পারবে না। আমি আশা করি, এ বছর আমার বিট্টুর দাম ২৪-২৫ লাখ টাকা হবে। মুসলমানদের পবিত্র কোরবানিতে আমার বিট্টু হবে খুলনা বিভাগের মধ্যে সর্ববৃহত্ ষাঁড়। আমার বিট্টুকে যারা কিনে কোরবানি দেবেন তারা কৃত্রিমতা ছাড়া একটি ভালো ষাঁড় পাবেন।
বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা খান শাহিদুজ্জামান বলেন, বাগেরহাট জেলায় বেশ কয়েকটি বড় ধরনের গরুর খামার রয়েছে। এ খামারের মালিকরা আমাদের পরামর্শ নিয়ে দেশীয় খাবার খাইয়ে পশু পালন করছেন। সব গরুর খামারিরাই লাভজনক অবস্থায় থাকবেন। মোরেলগঞ্জের শৈলখালী গ্রামের অনুজ হালদারের খামারের বিষয়টি আমি জেনেছি। তবে তার ষাঁড়টির ওজন ৩৭ মণ হবে কিনা সরেজমিনে না দেখে বলা সম্ভব নয়। আমাদের প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে অনুজ হালদার প্রশিক্ষণ নিয়ে গরুর খামার পরিচালনা করছেন।