সোমবার ২২ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ১২:৩৩

জাতির পিতার নাম মুছে ফেলার অনেক চক্রান্ত হয়েছে : শেখ হাসিনা

Published : 2017-08-16 23:54:00
নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই দেশে জাতির পিতার নামটা মুছে ফেলার অনেক চক্রান্ত হয়েছে। ২১ বছর তাঁর ভাষণ প্রচার হয়নি। রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ছিলেন নিষিদ্ধ। মনগড়া ইতিহাস প্রচার করা হতো।
গতকাল বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় শোক দিবসের এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভাগ্য, এদেশের কল্যাণে যিনি কাজ করেন তাকে এর চরম খেসারত দিতে হয়। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ যখন ধীরে ধীরে উন্নত দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল তখনই ১৫ আগস্টের আঘাত আসে।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল বাংলাদেশে মনে হতো মুক্তিযুদ্ধ করাটাই ছিল অপরাধ। দেশটাকে যেন আবার পাকিস্তানের প্রদেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা ছিল। অতি সূক্ষ্মভাবে জাতির পিতার ওপর অপবাদ দেওয়া হয়েছে। যারা ২৭ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানের চাকরি করেছে তাদের স্বাধীনতার ঘোষক প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু একজন রাষ্ট্রপতিকে হত্যা নয়, শুধু একটি দলের প্রধানকে নয়, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধ্বংস করা, স্বাধীনতাকে খর্ব করা।
১৫ আগস্টের কালরাতের বর্ণনা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সেই বাড়িতে  কেউ বেঁচে ছিল না। আমার মায়ের কী অপরাধ ছিল এখনও বুঝে উঠতে পারিনি। আমার ভাই মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল, জামালকে কেন হত্যা করা হয়েছে। ১০ বছরের রাসেলের কী দোষ ছিল? আমার একমাত্র চাচা আবু নাসেরকে হত্যা করেছে খুনিরা। আমার মেজ ফুফুর বাড়িতে আক্রমণ করেছে। সেখানে শেখ ফজলুল হক মনিকে হত্যা করেছে। আমার সেজ ফুফুর বাসায় আক্রমণ করেছে। আমার ফুফা আবদুর রব সেরনিয়াবাতকে হত্যা করেছে। গুলির আঘাতে আমার ফুফু পঙ্গু হয়ে বেঁচেছিলেন। আমার ছোট ফুফুর বাড়িতেও গিয়ে ফুফাকে খুঁজেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, খুনিরা পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল। এই ষড়যন্ত্রে খুনি মোশতাক আর জিয়া ছিল জড়িত। একজন প্রেসিডেন্ট আরেকজন সেনাপ্রধান। তাদের সম্পর্ক কত ঘনিষ্ঠ ছিল, হত্যার পরপরই একজন প্রেসিডেন্ট হয়ে গেল আরেকজন সেনাপ্রধান হয়ে গেল।
বঙ্গবন্ধু হত্যার পরবর্তী সময়ের বর্ণনা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন খুনিদের দিয়ে রাজনৈতিক সংগঠন করেছিলেন। জিয়া কাউকে মন্ত্রী, কাউকে উপদেষ্টা করেছেন। এরশাদ খুনি রশীদকে দিয়ে ফ্রিডম পার্টি বানিয়ে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করেছেন। খালেদা ১৫ ফেব্রুয়ারি খুনি রশীদ ও হুদাকে সাংসদ করে বিরোধী দলের আসনে বসিয়েছিলেন। যারা আত্মস্বীকৃত খুনি তারাই ছিল পরবর্তী শাসকদের প্রিয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা আজ কোনো হত্যা হলেই সোচ্চার হয় বিচারের জন্য, তারা তো এই কথা বলে না যারা জাতির পিতাকে হত্যা করেছে, শিশুকে হত্যা করেছে, তাদের যারা পুনর্বাসন করেছিল তাদের বিচার হয়নি কেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আজ আমি ক্ষমতায়, আমার কাছে সবাই বিচার চায়। কিন্তু আমি তো স্বজন হারানোর বিচার চাইতে পারিনি। এমনকি আমাদের বিচার চাওয়ার অধিকারটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায় যেদিন ঘোষণা হবে সেদিন হরতাল ডেকেছিল বিএনপি।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে খুনিরা ভেবেছিল স্বাধীনতার ইতিহাস মুছে ফেলবে, দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানাবে। স্বাধীন জাতি হিসেবে দাঁড়াতে দেবে না। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। আমরা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে আবার দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধে শুধু নেতৃত্বই দেননি, আওয়ামী লীগ সংগঠন গড়ে তুলেছেন। মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন এই সংগঠন গড়ে তুলতে। সারা দেশে ঘুরেছেন, মানুষকে মুক্তির পক্ষে সংগঠিত করেছেন। এ জন্য ২৫ মার্চ রাতে তাকে ধরে নিয়ে যায় পাকিস্তানি বাহিনী। ইয়াহিয়া খান তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির রায়ও দেন। আর কাউকে তো ফাঁসির রায় দেননি। এতেই বোঝা যায় মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা কতটুকু।
তিনি বলেন, এখন অনেক কথাই শুনি, এ নিয়ে কথা বলব না, সময় হলে জবাব দেব।
বিচারপতিদের দিকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, যারা এই কথা বলে যে কোনো একক ব্যক্তিত্বের দ্বারা দেশ স্বাধীন হয়নি তারা কি ইয়াহিয়া খানের ভাষণটা পড়েননি? সেই ভাষণটা পড়ে দেখুন কাকে দোষারোপ করা হয়েছে।
আলোচনা সভায় দলের নেতাদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান, শিক্ষক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ও সাংবাদিক আবেদ খান।