শনিবার ২০ জানুয়ারি, ২০১৮, সন্ধ্যা ০৭:১৫

মানিকগঞ্জে ‘রাজা বাবু’র দাম হাঁকা হচ্ছে ১৫ লাখ!

Published : 2017-08-15 23:57:00
মনিরুল ইসলাম মিহির, মানিকগঞ্জ: ‘লক্ষ্মী সোনা’র পর এবারের চমক বৃহত্ আকৃতির ষাঁড় ‘রাজা বাবু’। লম্বায় ৭ ফুট ৩ ইঞ্চি, বেড় ৯ ফুট ১ ইঞ্চি। ওজন দেড় টন। ঈদুল আজহার কোরবানি উপলক্ষে ‘রাজা বাবু’কে লালন-পালন করছেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দেলুয়া গ্রামের পরিষ্কার বেগম ও তার স্কুলপড়ুয়া মেয়ে ইতি আক্তার। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিক্রির জন্য এই রাজা বাবুর দাম হাঁকা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা।
দেশীয় খাবারের পাশাপাশি আপেল, আঙুর, কমলা, মাল্টা, কলাসহ নানা পদের ফলমূল খাইয়ে পরম আদর-যত্নে বড় করা হচ্ছে রাজা বাবুকে। এটিই জেলার সবচেয়ে বড় আকৃতি ও ওজনের ষাঁড় বলে দাবি করেছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা। রাজা বাবুকে দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন আশপাশসহ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের শত শত মানুষ।
১০-১২ বছর আগে থেকেই সাটুরিয়া উপজেলার দিঘুলিয়া ইউনিয়নের
দেলুয়া গ্রামের পরিষ্কার বেগম ও তার স্বামী খান্নু মিয়া গরু লালন-পালন করে আসছেন। প্রতি বছরই ওই পরিবারটি কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণ করে লাভবান হয়ে আসছে। তাদের কন্যা ইতি আক্তার সম্প্রতি সাভার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি প্রশিক্ষণ নিয়ে গরু পালন শুরু করেন। গত বছর কোরবানি ঈদে ২৭ মণ ওজনের লক্ষ্মী সোনা নামের একটি ষাঁড় ১০ লাখ টাকা বিক্রি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। আর প্রথম বছরেই লাভবান হওয়ায় এ বছর আরও বড় আকারের গরু মোটাতাজকরণ শুরু করেন।
পরিষ্কার বেগম বলেন, গত বছরে গরু বিক্রির টাকায় ঋণ পরিশোধ করার পর বাকি টাকা দিয়ে এক বছর আগে ঢাকার কেরানিগঞ্জ থেকে দুই বছর বয়সী ফিজিয়ান জাতের একটি ষাঁড় গরু কিনে আনেন। সাদা ও কাল রঙের ষাঁড়টির যত্ন নেওয়া শুরু করেন মা-মেয়ে। ষাঁড়টির নাম দেন ‘রাজা বাবু’। রাজা বাবু বললেই তাদের ডাকে সাড়া দেয় ষাঁড়টি।
ইতি আক্তার জানায়, তার কোনো ভাই না থাকায় রাজা বাবুকে ভাইয়ের মতোই আদর করছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাজা বাবুকে লালন করছি। রাজা বাবুকে স্যাম্পু দিয়ে দিনে দু’বার গোসল করানো হয়।
পরিষ্কার বেগম স্বামী খান্নু মিয়া বলেন, আমি গ্রামের মহাজনদের কাছ থেকে সুদ করে টাকা এনে এ ষাঁড়টিকে বড় করেছি। প্রতিদিন ২৫ কেজি পরিমাণ খাবার খাওয়াচ্ছি। এতে আমার প্রতিদিনই এক হাজার থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। গত সাত-আট মাস ধরেই এভাবে পালন করে আসছি।
সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. খুরশেদ আলম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে সাটুরিয়া উপজেলায় ৭ হাজার গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। তার মধ্যে ইতি ও পরিষ্কার বেগমের পালিত এই ষাঁড়টির ওজন মেপেছি। এখন পর্যন্ত রাজা বাবু নামের এই ষাঁড়টির ওজন ১৫৬৬ কেজি, যা ৩৯ মণ বা দেড় টনেরও বেশি। আমাদের জানা মতে এটিই জেলার সর্বোচ্চ ওজনের ষাঁড় গরু।