মঙ্গলবার ১৬ জানুয়ারি, ২০১৮, বিকাল ০৩:৩৮

এক ছাগলের বাজার মূল্য ৭০ হাজার টাকা!

Published : 2017-08-15 23:57:00
জিএম ফারুক আলম মনিরামপুর: যশোরের মনিরামপুর উপজেলার জলাবদ্ধ শ্যামকুড় ইউনিয়নের চিনাটোলা গ্রামের ৩২ বছর বয়সী যুবক আতাউর রহমান পলাশ। পেশায় একজন মুদি ব্যবসায়ী। স্থানীয় নাগোরঘোপ মোড়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি পশুপাখি লালন-পালনও করেন তিনি। পলাশের পোষা একটি
ছাগলের বর্তমান বাজার মূল্য ৭০ হাজার টাকা। এ ছাড়া তার রয়েছে ৪৫ জোড়া দেশি কবুতর। দোকানের পাশাপাশি ছাগল ও কবুতরের যত্ন করেই সময় কাটে পলাশের। তিনি চিনাটোলা গ্রামের মাশিয়ার রহমানের ছেলে।
সম্প্রতি কথা হয় পলাশের সঙ্গে। তিনি জানান, ১৫ থেকে ২০ বছর আগে মহেশপুরে নানাবাড়ি বেড়াতে গিয়ে এলাকার আবদুল হামিদকে দেখেন। চাকরির পাশাপাশি উন্নত জাতের দুটি ছাগল পুষছিলেন আবদুল হামিদ। তার মধ্যে একটি ছাগল জবাই দেওয়ার পর সেই ছাগলের ৩ মণ ২০ কেজি মাংস হয়েছিল। সেখান থেকে পলাশের ছাগল পালনের ইচ্ছা।
অনেক খোঁজাখুঁজির পর বড় ভাই মাহাবুর রহমানের শ্বশুর যশোরের চৌগাছার সোহবার হোসেনের কাছ থেকে আড়াই বছর আগে সাড়ে আট হাজার টাকায় দেড় মাস বয়সী একটি ছাগল কিনে নিয়ে আসেন তিনি। ছাগলটি অস্ট্রেলিয়ান জাতের বলে জানান পলাশ। তিনি বলেন, ধানের বিচলির সঙ্গে খৈল ও ভুসি মিশিয়ে এবং গাছের পাতা খাইয়ে ছাগলটি এত বড় করেছি।
পলাশ জানান, দুই মাস আগে একবার বেপারি দিয়ে ছাগলের দাম করেছিলেন তিনি। তখন তারা ৬০ হাজার টাকা দাম বলেছিল। এবারের ঈদুল আজহায় ছাগলটি বিক্রি করতে চান তিনি। সেই ক্ষেত্রে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা হলে ছাগলটি বিক্রি করবেন। স্থানীয় বাজারে আশানুরূপ মূল্য না পেলে ছাগল নিয়ে চট্টগ্রামের হাটে যাবেন বলেও সিদ্ধান্ত রয়েছে তার।
জানা গেছে, গত ২২ দিন ধরে পলাশের বাড়িতে হাঁটু পানি। ছাগলের ঘরেও পানি উঠেছিল। পানির কারণে ছাগল বের করতে পারছিলেন না। তার দাবি, যদি ছাগল অসুস্থ না হতো আর চারদিকে বৃষ্টির পানি না উঠত তাহলে তার ছাগলের দাম ছিল এক লাখ টাকার ওপরে।
মনিরামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবুজার ছিদ্দিক বলেন, উপজেলায় কেউ এত বড় ছাগল পালন করেছে বলে আমার জানা নেই। তবে উপজেলায় কতটি ছাগল পালন হচ্ছে সেই তথ্য আমাদের রেজিস্টারভুক্ত রয়েছে।