সোমবার ২২ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ১২:৩২

রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের প্রয়াণ

Published : 2017-08-15 22:32:00
ধর্মসাধক রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের জন্ম ১৮৩৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। পিতা ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় এবং মাতা চন্দ্রমণি দেবী। তাঁর বাল্যনাম গদাধর। বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে অনুশীলনের ফলে হিন্দু, ইসলাম, খ্রিস্ট, শিখ, বৌদ্ধ প্রভৃতি ধর্মের সঙ্গে তাঁর নিবিড় পরিচয় ঘটে। ১৮৫৫ সালে তিনি রানী রাসমণি নির্মিত দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ির পুরোহিত নিযুক্ত হন। এখানে কালীসাধনায় তাঁর সিদ্ধিলাভ ঘটে। তেইশ বছর বয়সে তিনি সারদামণির পাণিগ্রহণ করেন। সারদামণির বয়স তখন ছিল ছয় বছর। এ ছিল নামে বিবাহ, উভয়ের মধ্যে কোনো কালেই কোনো দৈহিক সম্পর্ক ছিল না। পরে উনিশ বছর বয়সে যখন সারদামণি দক্ষিণেশ্বরে আসেন, তখন রামকৃষ্ণ তাকে সাক্ষাত্ জগদম্বা-জ্ঞানে পূজা করেন।
রামকৃষ্ণের সরল অনাড়ম্বর জীবন, জ্ঞান ও উপদেশে মুগ্ধ হয়ে ভারতের কলকাতার তত্কালীন শিক্ষিত সমাজ তাঁকে যুগাবতাররূপে মান্য করত। সাধারণভাবে তিনি পরমহংসদেব নামে অভিহিত। তিনি ধর্মের জটিল ও গভীর বিষয়গুলোকে অতি প্রাঞ্জলভাবে ব্যাখ্যা করতেন। বিবেকানন্দ ছিলেন তাঁর অতি প্রিয় শিষ্য। এছাড়া শিবনাথ শাস্ত্রী, কেশবচন্দ্র সেন, গিরিশচন্দ্র ঘোষ প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তি তাঁর সংস্পর্শে আসেন। ফরাসি মনীষী রঁমা রোঁলা স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গে আলোচনা করে রামকৃষ্ণ দেব সম্পর্কে এক বৃহত্ জীবনী প্রণয়ন করেন।
রামকৃষ্ণের উপদেশাবলি শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত নামে পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয়েছে। ‘শক্তি’র উপাসনা তাঁর ধর্মমতের মূল কথা। ধর্ম সম্পর্কে তাঁর ব্যাখ্যা হল ‘সব ধর্মই সত্য। যত মত তত পথ’ রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব এক বিশাল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছেন।
দেশ-বিদেশে তাঁর অসংখ্য ভক্ত আছে এবং ভক্তগণ কর্তৃক রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা তাঁর বিপুল প্রভাবকেই প্রমাণিত করে। মূর্তি গড়া, ছবি আঁকা এবং অভিনয়কলাতেও তিনি পারদর্শী ছিলেন।
১৮৮৬ সালের ১৬ আগস্ট রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের প্রয়াণ ঘটে।