সোমবার ২৩ অক্টোবর, ২০১৭, রাত ১১:১৯

কোরবানির পশুর হাট: স্বচ্ছতার সঙ্গে বরাদ্দ দেওয়া হোক

Published : 2017-08-12 00:00:00, Count : 148
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশু কেনা-বেচার জন্য এ বছর রাজধানীতে ২২টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ৯টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ১৩টি অস্থায়ী পশুর হাট বসবে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে দরপত্রের মাধ্যমে হাট বরাদ্দের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তবে উদ্বেগের কারণ হচ্ছে, বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও এসব হাট বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
আমরা লক্ষ করেছি, প্রতিবারই রাজধানীসহ সারাদেশে কোরবানির পশুর হাটের ইজারা বরাদ্দের ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। তবে দুঃখজনক হলেও অস্বীকার করার উপায় নেই, প্রতিবারই এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে পশুর হাটগুলো নামমাত্র মূল্যে ইজারা নিয়ে নিচ্ছে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা বিভিন্ন সিন্ডিকেট। বিশেষ করে রাজধানীতে অস্থায়ী পশুর হাট বরাদ্দে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য যেন ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
এ বছর কোরবানির পশুর হাট বরাদ্দ নিয়ে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষের কর্মকাণ্ড বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ ইজারাদারদের অধিকার জলাঞ্জলি দিয়ে প্রভাবশালী ও পছন্দের লোকজনকে হাট পাইয়ে দিতে একেবারে গোপনে সেরে ফেলা হচ্ছে বরাদ্দ প্রক্রিয়া। আর এই অভিযোগের যথেষ্ট সত্যতাও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিবরণীতে উঠে এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী কোরবানির পশুর হাট বরাদ্দের আগে দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু অনিয়মটা হয় দরপত্র পর্যবেক্ষণ ও হাট বরাদ্দের সময়। বরাদ্দ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করার জন্য উন্মুক্তভাবে এবং গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে দরপত্র বাক্স খোলার কথা। কিন্তু ডিএনসিসি এসব নিয়মকে তোয়াক্কা না করে গোপনে হাট বরাদ্দ দিচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের অনুপস্থিতিতেই দরপত্র খোলা ও বরাদ্দ সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করে ডিএনসিসি। অথচ রাজধানীতে অস্থায়ী পশুর হাট বরাদ্দ দিয়ে মোটা অঙ্কের রাজস্ব আদায়ের সুযোগ থাকে। অনিয়ম করে নামমাত্র মূল্যে রাজনৈতিক নেতাকর্মী বা বিভিন্ন সিন্ডিকেটের লোকজনের হাতে হাটের ইজারা তুলে দিলে কিছু অসাধু লোকের পকেটে টাকা উঠলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় সরকার বা রাষ্ট্র; বৃহত্ অর্থে দেশের জনগণ।
অন্যদিকে যদি প্রকৃত ইজারাদাররা ইজারা না পান, যদি বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাতে হয়, তবে সার্বিকভাবেই এটা উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাসাপেক্ষে সরকার যদি একটি সুনিয়ন্ত্রিত অবকাঠামো তৈরি ও এর কার্যকর বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়, তবে যেমন রাজস্ব হারাতে হবে না, তেমনি যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রকৃত ইজারাদাররাই হাটের ইজারা পাবেন; যা নিঃসন্দেহে সব দিকেই ইতিবাচক হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
আমরা মনে করি, এ বছর রাজধানীতে কোরবানির পশুর হাট বরাদ্দ নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি-দলীয় প্রীতির যে অভিযোগ উঠেছে, তার খোলস উন্মোচন করা দরকার। রাজধানীসহ সারাদেশে কোরবানির পশুর হাট বরাদ্দে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে, আমরা সেই প্রত্যাশাই করি।