বুধবার ২৩ আগস্ট, ২০১৭, রাত ০২:৪৫

ক্ষুদিরামের ফাঁসি কার্যকর

Published : 2017-08-11 00:01:00, Count : 651
ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী যাঁকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছিল, যিনি ফাঁসির মঞ্চে হাসিমুখে মৃত্যুকে বরণ করে নিয়েছিলেন, তিনি বিপ্লবী ক্ষুদিরাম। ফাঁসির মঞ্চে ক্ষুদিরাম নির্ভীকভাবে উঠে যান। তাঁর মধ্যে কোনো ভয় কাজ করছিল না। ক্ষুদিরাম বসুর জন্ম ১৮৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর।
দুরন্ত ও বাউণ্ডুলে স্বভাবের কিশোর ক্ষুদিরাম অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। ঝুঁকে পড়েন দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডে। বঙ্গভঙ্গবিরোধী ও স্বদেশি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি সত্যেন বসুর নেতৃত্বে গুপ্ত সংগঠনে যোগ দেন। এই সংগঠনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ক্ষুদিরাম ইংল্যান্ডে উত্পাদিত কাপড় জ্বালিয়ে দেন এবং ইংল্যান্ড থেকে আমদানিকৃত লবণবোঝাই নৌকা ডুবিয়ে দেন। সে সময় একজন হাবিলদার ক্ষুদিরামের হাত চেপে ধরলে তিনি তার মুখের মধ্যে ঘুষি মেরে দিলেন সমস্ত শক্তি দিয়ে। তত্ক্ষণাত্ নাক ফেটে রক্ত বেরোল। ক্ষুদিরাম মুহূর্তের মধ্যে হাওয়া।
দেশজুড়ে বিপ্লবের ঢেউ। হাজার হাজার ছেলেমেয়ে জড়িয়ে আছে দেশমাতৃকার কাজে। পুলিশের কাছে ধরা দিলেন ক্ষুদিরাম। পুলিশ মারা ও নিষিদ্ধ বই বিলির অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হল। স্বাধীনতাকামী বিপ্লববাদী দলগুলোকে দমন করার জন্য ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী যখন মরিয়া হয়ে ওঠে, তখন ক্ষুদিরাম মুক্তি পেলেন।
কিংসফোর্ডকে মারার জন্য বারীণ ঘোষ বোমা পৌঁছে দিলেন প্রফুল্ল চাকী ও ক্ষুদিরামের কাছে। তাকে হত্যা করার জন্য চলে যান মোজাফফরপুরে। সন্ধ্যার পর কিংসফোর্ডের সাদা ফিটন গাড়িটি তাঁদের কাছে পৌঁছামাত্র গাড়িটি লক্ষ করে বোমা নিক্ষেপ করলেন। কিন্তু ওই গাড়িতে তখন কিংসফোর্ড ছিলেন না। ছিলেন দুজন বিদেশি, তারা মারা গেলেন। ব্রিটিশ পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকী। প্রফুল্ল চাকী ধরা পড়ার পর আত্মহত্যা করেন। এর প্রায় তিন মাস দশ দিন পর ১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট হাসতে হাসতে ফাঁসির মঞ্চের দিকে এগিয়ে গেলেন ক্ষুদিরাম।