শুক্রবার ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮, দুপুর ০১:৪৭

ভোটার তালিকা হালনাগাদ: কেউ যেন বাদ না পড়ে

Published : 2017-08-09 22:09:00

ইসির কর্মকর্তারা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদপড়া এবং নতুন করে ভোটার হওয়ার যোগ্য নাগরিকদের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহের নির্ধারিত তারিখ গতকাল শেষ হয়েছে। গত ২৫ জুলাই থেকে এ কার্যক্রম চালু হয়েছিল। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে যাদের বয়স ১৮ হবে এবং যেসব নাগরিক যোগ্য হওয়ার পরও ভোটার হতে পারেননি, হালনাগাদে তাদের তথ্য সংগ্রহের কথা ছিল। কিন্তু সকালের খবর-এর রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, অধিকাংশ এলাকায় ইসির মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাননি। ফলে অনেক নাগরিক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকায় তাদের নাম উঠাতে পারেননি।
ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা একটি রুটিনওয়ার্ক। প্রতিবারই জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়। এবারও তাই করার কর্মসূচি ছিল। একটি ভোটার তালিকা তৈরি হওয়ার পর নতুন তালিকা তৈরির ব্যবধান যদি ৫ বছর হয়, তখন ভোটার তালিকায় অনেক নাম সংযোজন-বিয়োজনের প্রয়োজন হয়। এই ৫ বছরের মধ্যে অনেক তরুণের বয়স ১৮ বা এর বেশি হয়ে যায়, তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। এ সময়ের মধ্যে যারা মারা যান, তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে হয়। এবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার কাজে অনেক গাফিলতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইসির প্রচার-প্রচারণার অভাব, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের বাড়ি বাড়ি না যাওয়া, ভোটার তালিকা হালনাগাদে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং না করা, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন না দেওয়ায় অধিকাংশ নাগরিক জানতেই পারেননি ভোটার তালিকা হালনাগাদের খবর। প্রতিবারই দেখা গেছে জুমার নামাজ শেষে ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য ইমামদের দিয়ে ঘোষণা দেওয়া হতো। এবার সে রকম কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এছাড়াও এবার ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে নতুন ভোটারদের তথ্য সংগ্রহে থানা, উপজেলা ও জেলা অফিসগুলোতে ল্যাপটপ, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, স্ক্যানারসহ প্রযুক্তিগত সহায়তার অভাব ছিল।
যেকোনো নির্বাচনের জন্য প্রাথমিক শর্ত হচ্ছে একটি সঠিক হালনাগাদ ভোটার তালিকা তৈরি করা। জাতীয় নির্বাচনে এর গুরুত্ব কতটুকু তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ভোটার তালিকা সঠিক এবং হালনাগাদ হলে সে অনুযায়ী ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকায় যদি নামই না ওঠে, তখন তো ভোটাধিকার প্রয়োগের কোনো সুযোগ থাকে না। ভোট দেওয়া যেকোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কারও নাম ভোটার তালিকায় না ওঠা সেই নাগরিকের মৌলিক অধিকার খর্ব করার শামিল। ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে যোগ্য কোনো ব্যক্তিকে ভোটার তালিকা না করার যেকোনো ত্রুটি সারিয়ে তাদের হালনাগাদ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা চাই ত্রুটিমুক্ত, হালনাগাদ তালিকা ভিত্তি করেই জাতীয় নির্বাচনসহ সব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।