শুক্রবার ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮, দুপুর ০১:৫০

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বন

Published : 2017-03-24 22:16:00, Updated : 2017-04-04 20:22:31
প্রকাশ ঘোষ বিধান: জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বনের গুরুত্ব অপরিসিম। বন ছাড়া জীববৈচিত্র্য তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে না। উদ্ভিদ ও প্রাণী তথা জীববৈচিত্র্যের একমাত্র আশ্রয়স্থল হচ্ছে বন। বন মহাকালের সৃষ্টি, এতে মানুষের হাত নেই। কিন্তু মানুষের অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের কারণে জীববৈচিত্র্য আজ বিলুপ্তির পথে।
বন সুরক্ষা ও জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষায় এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন ২১ মার্চ বিশ্ব বন দিবস পালন করছে। বর্তমানে পরিবেশ দূষণে বিশ্ব আজ মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হতে চলেছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে জীববৈচিত্র্যের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। বিশ্বের মোট ভূমির ৭৮ ভাগ চাষাবাদের অনুপযোগী আর ২২ ভাগ চাষাবাদযোগ্য। দুইশ’ বছর আগেও বিশ্বের ৪৭ ভাগ এলাকা বনভূমিতে পরিবেষ্টিত ছিল, বর্তমানে ২৯ ভাগ এলাকা বনভূমি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। অথচ বাংলাদেশে মোট বনভূমি ১৭.৪ ভাগ। দেশের মোট আয়তন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৯৩ বর্গ কিমি। এর মধ্যে বনাঞ্চল ২৩ হাজার ৯৯৮ বর্গ কিমি। জনসংখ্যা চাহিদার তুলনায় বনভূমির পরিমাণ খুবই কম। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ছড়ানো-ছিটানো যে অল্প বনভূমি রয়েছে তাও মানুষ নির্বিচারে কেটে সাবাড় করছে। দেশের মানুষের কাঠ ও জ্বালানি কাঠের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে গিয়ে বনভূমি দ্রুত সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা পৃথিবী থেকে বনভূমি  দ্রুত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। প্রতি মিনিটে পৃথিবী থেকে ১৯০ একর বন উজাড় হয়ে যাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ ও শিল্পায়নের প্রয়োজনে পরিবেশ তথা বন ধ্বংস হওয়ার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বের প্রায় ১০০টির বেশি দেশ মরুময়তার শিকার। ড্রাইল্যান্ডের ৭০ ভাগ ভূমি আজ বন হারিয়ে যাওয়ায় মরুময়তায় চলে যাচ্ছে। পরিবেশ ও বন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা ১.৫ হতে ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাবে। ফলে মেরু অঞ্চলের জমাট বাঁধা বরফপুঞ্জ গলতে শুরু করবে এবং সমুদ্রের পানি উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী সমুদ্র উপকূলীয় নিচু অঞ্চলগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাবে। পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রয়োজন বন সুরক্ষা এবং বনায়ন কার্যক্রম গতিশীল করা। আমাদের জীবন বাঁচানোর তাগিদে বন সুরক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। তাহলে আমরা পাব দূষণমুক্ত জীববৈচিত্র্যে ভরপুর নির্মল পরিবেশ।