সোমবার ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭, রাত ১০:৩৮

বাড়ি বাড়ি না গিয়েই ভোটার তালিকা হালনাগাদ শেষ!

Published : 2017-08-08 23:28:00
গোলাম সামদানী: বাড়ি বাড়ি না গিয়ে এবারও ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শেষ করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ২৫ জুলাই থেকে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হলেও প্রচার-প্রচারণার অভাবে অধিকাংশ নাগরিক জানতেই পারেনি ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের তথ্য। এরই মধ্যে আজ শেষ হচ্ছে ভোটার তালিকা নাগাদের তথ্য সংগ্রহের কাজ। কিন্তু ইসির মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহে ভোটারের বাড়ি বাড়ি না যাওয়ায় ভোটার হওয়ার যোগ্য অনেকেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে যাচ্ছে।
ইসি সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে যাদের বয়স ১৮ হবে এবং যেসব নাগরিক যোগ্য হওয়ার পরও বিভিন্ন কারণে ভোটার হতে পারেনি হালনাগাদে তাদের তথ্য সংগ্রহের কথা ছিল। এজন্য গত ২৫ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত ইসির কর্মকর্তারা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদপড়া এবং নতুন করে ভোটার হওয়ার যোগ্য নাগরিকদের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহের জন্য পূর্বনির্ধারিত ছিল। কিন্তু সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এবং খোঁজ নিয়ে জানা গেছে অধিকাংশ এলাকায় ইসির মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি যাননি। ফলে অনেক নাগরিক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকায় নাম ওঠাতে পারেনি। আর বাড়ি বাড়ি না যাওয়ার বিষয়টি স্বয়ং ইসি সচিবও স্বীকার করেছেন।
এ ব্যাপারে গতকাল ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সকালের খবরকে জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণে শহরে কিছু সমস্যা হলেও গ্রাম-গঞ্জে ভালোভাবেই তা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, শহর এলাকায় প্রত্যেক বাসায় বাসায় যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয় কাউন্সিলর এবং বিভিন্ন ফ্ল্যাটের লোকজনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ করা হয়েছে।
অধিকাংশ এলাকায় ইসির লোকজন হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহে যায়নি এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব জানান, সব বাসায় যাওয়া অনেক সময় সম্ভব নাও হতে পারে। তবে বাড়ি বাড়ি না গেলেও বিভিন্নভাবে বাদপড়া এবং নতুন ভোটার হওয়ার যোগ্যদের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, ইসির প্রচার ও প্রচারণার অভাব, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বাড়ি বাড়ি না যাওয়া, ভোটার তালিকা হালনাগাদে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং না করা, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন না দেওয়ায় অধিকাংশ নাগরিক জানতেই পারেনি ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণের খবর। এ ছাড়াও বৃষ্টি-বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ভেস্তে গেছে ইসির হালনাগাদ কার্যক্রম। এ ছাড়া বিগত দিনে জুমার নামাজের সময় মসজিদে ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য ইমামদের দিয়ে ঘোষণা দেওয়া হলেও এবার তার কিছুই করা হয়নি। ফলে চরম নাজুক অবস্থার মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম।
ইসি সূত্র জানায়, এবার ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে নতুন ভোটারের তথ্য সংগ্রহে থানা, উপজেলা ও জেলা অফিসগুলোতে ল্যাপটপ, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, স্ক্যানারসহ প্রযুক্তিগত সহায়তার অভাব ছিল। স্থানীয় নির্বাচন অফিসগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের নিজস্ব নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) নেই। এ ছাড়া হালনাগাদের সময় দ্বৈত ভোটার শনাক্তের জন্য তথ্য ম্যাচিং এএফআইএস (অটোমেটিক ফিঙ্গার আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম) সাপোর্ট সার্ভিসের সঙ্গে চুক্তি এক বছর আগেই শেষ হয়ে গেছে।
এদিকে অনেক নাগরিক অভিযোগ করেছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণের কোনো তথ্যই তারা পায়নি। আবার অনেক নাগরিক তথ্য পেলেও ইসির লোকজন বাসায় না আসায় ভোটার তালিকা হালনাগাদে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারেনি। এ ব্যাপারে রাজধানীর মিরপুরের ৩৯৬ সেনপাড়া পর্বতার বাসিন্দা লায়েকুজ্জামান সকালের খবরকে জানান, আমার মেয়ের বয়স আগামী জানুয়ারিতে ১৮ হবে। সে ভোটার হওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহে কেউ বাসায় কিংবা এলাকায় না আসায় তা করা যায়নি। এ ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক অভিযোগ এসেছে, সবার অভিযোগ প্রায় একই তা হল-ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহে ইসির কোনো কর্মকর্তার দেখা পাওয়া যায়নি।
ইসি সূত্র জানায়, ৯ আগস্টের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ শেষ হলে সংগৃহীত তথ্যাদি ২০ আগস্ট নিবন্ধন কেন্দ্রে কম্পিউটার ডাটা অ্যান্ট্রি কাজ তিন ধাপে শুরু হবে। প্রথম ধাপে ১৮৩টি উপজেলায় ২২ দিনে, দ্বিতীয় ধাপে ২১৬টি উপজেলায় ২৮ দিনে, তৃতীয় ধাপে ১১৮টি উপজেলায় ২১ দিনে, মোট ৫১৭টি উপজেলায় তথ্য সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এটি শেষ হবে ৫ নভেম্বর। ২৫ নভেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত উপজেলা ও থানা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন গ্রহণ, মৃত ভোটারের নাম কর্তন করা যাবে। ২ জানুয়ারি ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। দাবি-আপত্তি ও সংশোধনের জন্য দরখাস্ত দাখিলের শেষ তারিখ ১৭ জানুয়ারি। দাবি-আপত্তি ও সংশোধন নিষ্পত্তির শেষ তারিখ ২২ জানুয়ারি। দাবি-আপত্তি ও সংশোধনীর জন্য দাখিলকৃত দরখাস্তের ওপর গৃহীত সিদ্ধান্ত সন্নিবেশনের শেষ তারিখ ২৭ জানুয়ারি। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ জানুয়ারি।

আরও খবর