শুক্রবার ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮, ভোর ০৬:০০

যশোর জেনারেল হাসপাতালে ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো ভবন: আজ সব রোগী সরিয়ে নেওয়া হবে

Published : 2017-08-08 22:59:00
যশোর প্রতিনিধি: ২৫০ শয্যার যশোর জেনারেল হাসপাতালের ভবনের ধস ঠেকাতে বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করা সেই পুরনো সার্জারি ওয়ার্ড ব্যবহার না করার জন্য চিঠি দিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ। গতকাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতে সেই চিঠি পৌঁছেছে। গণপূর্ত বিভাগের চিঠি পাওয়ার পর ওই ভবনের রোগী সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আজকের মধ্যে ওই ভবনের সব রোগী পুরনো আরএমও (আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার) কোয়ার্টারে স্থানান্তর করা হবে বলে তত্ত্বাবধায়ক নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, হাসপাতালের পুরনো সার্জারি ভবনের ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। পলেস্তারা খসে পড়ছে। বারান্দার বিমের চাপে গ্রিলও বাঁকা হয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির দ্বিতীয়তলা ও নিচতলায় চলছে কয়েকশ’ রোগীর চিকিত্সাসেবা কার্যক্রম। সর্বশেষ গত ৫ আগস্ট ছাদের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য বাঁশের খুঁটি দেয় গণপূর্ত বিভাগ। এ বিষয়ে সম্প্রতি দৈনিক সকালের খবরসহ জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর নড়েচড়ে বসে গণপূর্ত বিভাগ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
গণপূর্ত বিভাগের ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৭ আগস্ট হাসপাতালের পুরনো দ্বিতীয়তলা ভবনটি নির্বাহী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। গত ৬
আগস্টের চিঠিতে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ দ্বিতীয়তলার বারান্দা ব্যবহার না করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। প্রচুর সংখ্যক রোগী ও তাদের আত্মীয়স্বজন অবিরাম ঝুঁকিপূর্ণ বারান্দা ব্যবহার করছেন। যেকোনো সময় ভবনটিতে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তা ছাড়া ভবনটির কক্ষগুলোর অভ্যন্তরীণ বিম ও ছাদের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভবনটির কক্ষ ও বারান্দার বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশের স্থিরচিত্র গণপূর্ত বিভাগের সংশ্লিষ্ট ডিজাইন বিশেষজ্ঞ বরাবর পাঠানো হয়েছে। গণপূর্ত অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট ডিজাইন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করে এবং ভবনের আয়ুষ্কাল বিবেচনায় বর্তমান অবস্থায় ব্যবহার উপযোগী নয়। ভবনটি ব্যবহার করলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ভবনটির নিচতলা ১৯৪০ সালে এবং দ্বিতীয়তলা ১৯৭০ সালে নির্মিত। ইতোপূর্বে ভবনটি কয়েক দফায় মেরামত ও সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছিল। এমতাবস্থায় গণপূর্ত অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট ডিজাইন বিশেষজ্ঞ কর্তৃক সরেজমিন পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ প্রদত্ত কারিগরি পরামর্শ অথবা প্রতিবেদন মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত ভবনটি জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো রূপ ব্যবহার না করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিশেষ অনুরোধ করা হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কামরুল ইসলাম বেনু বলেন, গণপূর্ত বিভাগের চিঠি পেয়েছি। তাদের নির্দেশনা মোতাবেক ওই ভবনের রোগী সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামীকালের (আজ) মধ্যে সব রোগী পুরনো আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) কোয়ার্টারে স্থানান্তর করা হবে।