সোমবার ২২ জানুয়ারি, ২০১৮, সন্ধ্যা ০৬:৩৭

জামদানির পরে ইলিশ: জিআই পণ্যের বাণিজ্যিক গুরুত্ব বাড়াতে হবে

Published : 2017-08-08 22:37:00
ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ির পর এবার জাতীয় মাছ ইলিশ বিশ্বদরবারে বাংলাদেশি পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেল। ইলিশের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের জীবন-জীবিকা, ইতিহাস আর ঐতিহ্যের নিবিড় সম্পর্ক থাকলেও এতদিন ইলিশ যে বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্য, তার স্বীকৃতি ছিল না। জামদানির পর এবার বাংলাদেশের ইলিশ মাছ ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই (জিওগ্রাফিক্যাল ইনডিকেশন) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, এই খবরে আমরা আনন্দিত।
দেরিতে হলেও আন্তর্জাতিকভাবে ইলিশের একক স্বত্বাধিকারীর স্বীকৃতি আদায়ের জন্য যারা কাজ করেছেন তাদের ধন্যবাদ। আমরা লক্ষ করেছি, ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশি পণ্যের একক পরিচিতি অর্জনের জন্য বর্তমান সরকার বেশ তত্পর রয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সংস্থাসমূহকে সাধুবাদ জানাই।
তথ্য মতে, বিশ্বব্যাপী উত্পাদিত মোট ইলিশের ৬০ শতাংশই বাংলাদেশের। অন্যদিকে দেশে মোট মত্স্য উত্পাদনে এককভাবে ইলিশের অবদানই প্রায় ১৫ শতাংশ। আর মোট দেশজ উত্পাদনেও (জিডিপি) এ খাতের অবদান ১ দশমিক ১৫ শতাংশ। তাই শুধু রসনা বিলাসের জন্যই নয়, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতেও ইলিশের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। সম্প্রতি জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী ইলিশের বাজার আরও প্রসারিত হবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোটাই এখন অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি ইলিশ ও ইলিশ হতে প্রক্রিয়াজাত পণ্যের একক আধিপত্য সৃষ্টি করতে এখন থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা আশা করি, সরকার এই সুযোগকে কাজে লাগাতে সক্ষম হবে।
ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) প্রতীক অর্জন করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ তাদের নিজস্ব পণ্যসামগ্রীর মালিকানা প্রতিষ্ঠা করছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের উদাসীনতায় ২০১৫ সালের আগে বাংলাদেশি পণ্যের জিআই সুবিধা পাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। অন্যদিকে ভারত জিআই নিবন্ধন শুরু করেছে ১৯৯০ সালে; ইতোমধ্যে ২১৮টি পণ্যের জিআই নিবন্ধনও করে ফেলেছে। বিভিন্ন তথ্য মতে, ওই পণ্যগুলোর মধ্যে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০টি পণ্য বাংলাদেশেও ঐতিহাসিকভাবে উত্পাদিত হয়। সময়মতো উদ্যোগ নেওয়া হলে বাংলাদেশি সেসব পণ্যও আন্তর্জাতিক পরিসরে নাম লেখাতে পারত। বেশিসংখ্যক পণ্যের জিআই নিবন্ধন পাওয়া গেলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, সত্য। তবে নিবন্ধন অর্জন করলেই হবে না, পণ্যের গুণগত মানও ধরে রাখতে হবে। মুক্তবাণিজ্যের এই যুগে মান দিয়েই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হয়।
জিআই তালিকায় আরও যেসব বাংলাদেশি পণ্য নাম লেখাতে পারে সেগুলো নিবন্ধন করতে হবে এবং বিশ্বদরবারে সেগুলোর বাণিজ্যিক পরিসর বাড়ানোর ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে হবে। শুধু সরকারি পর্যায়েই নয়, বেসরকারি এবং সামাজিক সব পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যগুলো চিহ্নিত এবং এগুলোর স্বত্ব দাবি করতে হবে। বাজার বা বাণিজ্যিক সুবিধার বাইরেও জাতিগত পরিচয় ও স্বকীয়তা তুলে ধরার জন্যও আমাদের ঐতিহ্যবাহী পণ্যগুলোর জিআই স্বত্ব অবিলম্বে নিবন্ধন করা দরকার।